ঢাবি: গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, জাতীয়তাবাদী ফ্যাসিবাদকে বিদায় দেওয়ার পর এখন ধর্মের আড়ালে নতুন এক ধরনের ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। বিরোধী পক্ষের ‘পরোক্ষ উসকানি’তে মব সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের অধিকার ও রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর আক্রমণের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গণসংহতি আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণসমাবেশে’ তিনি এসব কথা বলেন।
সাকি বলেন, ‘সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। কিন্তু একটি পক্ষ দেশকে অস্থিতিশীল করে সেই প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে চায়। তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। তাই জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ধর্ম, লিঙ্গ পরিচয় বা অন্য কোনো পরিচয়ের নামে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না। বিরোধী পক্ষের পরোক্ষ উসকানিতে মব সৃষ্টির মাধ্যমে নতুন ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা চলছে, যা নিয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
জুলাই অভ্যুত্থানের রাষ্ট্র পুনর্গঠনের লক্ষ্য একদিনে বাস্তবায়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে সাকি বলেন, এই রূপান্তরের সময়টিতেই ষড়যন্ত্রকারীরা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকবে। তাই গণসংহতি আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে তিনি গণসংহতি আন্দোলনের ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচির অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, সংসদের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংস্কার কমিটির প্রথম বৈঠক আগামী ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে গৃহীত জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া প্রতিশ্রুতি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে সাকি বলেন, সরকার আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতি থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি প্রথমে তিন মাস এবং পরবর্তীতে ছয় মাসের জ্বালানি মজুত গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
সমাবেশে জুলাই আন্দোলনের শহিদদের পরিবারের সদস্যরাও বক্তব্য দেন। শহিদ শিক্ষার্থী শাকিলের মা আয়েশা বিবি তার সন্তানের হত্যার বিচার দাবি করেন।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী দেওয়ান আবদুর রশীদ নিলু, নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সৈকত আরিফ এবং সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।