Saturday 29 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

গুমে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জামায়াত আমিরের

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৯ আগস্ট ২০২৬ ২৩:০২

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ফাইল ছবি

ঢাকা: আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে গুমের শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি সরকারের প্রতি এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘২০১১ সাল থেকে প্রতিবছর ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়ে আসছে।’ এই দিনে গুমের শিকার নিরপরাধ ব্যক্তিদের স্মরণ এবং তাদের শোকার্ত ও প্রতীক্ষারত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর প্রিয়জনের সন্ধান না পেয়ে অসংখ্য পরিবার গভীর মানসিক ট্রমা ও মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। অনেক পরিবার সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে পড়েছে।’

বাংলাদেশের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, ‘বিভিন্ন দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার তথ্যানুযায়ী, শেখ হাসিনার শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাত শতাধিক মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন।’ বিরোধী মত ও কণ্ঠরোধের উদ্দেশ্যে ‘আয়নাঘর’-এর মতো গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ আট বছরের বন্দিদশা ও গুম থাকার পর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আরমান আহমদ বিন কাসেম ফিরে এসেছেন। তবে জামায়াত নেতা হাফেজ জাকির হোসাইন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিবির নেতা আল মোকাদ্দাস ও মোহাম্মদ ওলিউল্লাহ, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী এবং সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলমসহ বহু নিখোঁজ ব্যক্তি এখনো ফিরে আসেননি।’

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “গুম প্রতিরোধ ও গুমের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে অন্তর্বর্তী সরকার ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’ প্রণয়ন করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সরকার অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত না করায় এর কার্যকারিতা লোপ পেয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, নতুন খসড়া বিলে গুম সংক্রান্ত আইনের সংজ্ঞাসহ বিভিন্ন ধারায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। গুমের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের ক্ষমতা পুলিশকে দেওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তভার আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতেই দেওয়া অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গুম একটি বিশেষ ধরনের অপরাধ। তাই এর মোকাবিলায় বিশেষ আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন।’

গুমসংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডার সরকারের অধীনে রাখার বিষয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে নতুন বিলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুমসংক্রান্ত তদন্ত ও অনুসন্ধান থেকে বাদ দেওয়ার সমালোচনা করেন জামায়াত আমির।

তিনি বলেন, ‘গুমের মতো সংবেদনশীল বিষয়ের সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংস্থার হাতে থাকা উচিত।’ মানবাধিকার কমিশনের নতুন খসড়া আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এর মাধ্যমে কমিশনকে কার্যত ‘টুথলেস টাইগার’-এ পরিণত করা হচ্ছে।”

বিবৃতিতে বর্তমান সরকারের প্রতি গুম ও নিখোঁজ নাগরিকদের দ্রুত উদ্ধারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে গুমের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তি ও ‘মাস্টারমাইন্ডদের’ বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

গুমকে বিশেষ অপরাধ হিসেবে পূর্ণ স্বীকৃতি দিয়ে এর সুষ্ঠু অনুসন্ধান, স্বাধীন তদন্ত এবং দ্রুত বিচারের জন্য একটি বিশেষ ও স্বাধীন আইনি কাঠামো গঠনেরও আহ্বান জানান জামায়াত আমির।