Sunday 30 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

দিল্লিতে আ.লীগ নেতাকে নিয়ে অনুষ্ঠান পরিকল্পনা, পুলিশের বাধা

সারাবাংলা ডেস্ক
৩০ আগস্ট ২০২৬ ২০:৪৬

ঢাকা: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগের এক সদস্য ও রোহিঙ্গা অধিকারকর্মীকে নিয়ে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে দিল্লি পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসি)। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্যা প্রিন্ট’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (২৯ আগস্ট) ‘ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া: ফ্রম ডায়ালগ টু আ পার্টনারশিপ’ শিরোনামে অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল। এফসিসি ও বেলজিয়ামভিত্তিক হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে এটি একটি সেমিনার কাম প্রেস কনফারেন্স হিসেবে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে ১০ সদস্যের একটি প্যানেল থাকার কথা ছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন- চেক রাজনীতিক ওন্দ্রেজ দস্তাল, জার্মান কূটনীতিক পিটার ফারেনহোল্টজ, বাংলাদেশি-আমেরিকান বিজ্ঞানী নুরান নবী, বাংলাদেশি আইনবিদ ও আওয়ামী লীগের নেতা সালিম মাহমুদ, নেপালের শিশু অধিকারকর্মী সুন্দর ঘিমিরে, রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী রাবি আলম, এফসিসি-আইএপিসির চেয়ারম্যান ভেঙ্কট নারায়ণ, সাবেক কূটনীতিক ভীনা সিকরি, ইউনাইটেড ডিপ্লোম্যাটিক কাউন্সিলের সভাপতি আসিফ ইকবাল এবং হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের মহাসচিব গোলাম জিলানি।

এফসিসির এক সদস্য দ্যা প্রিন্টকে জানান, নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্লাবের ব্যবস্থাপনা দলের একজন সদস্য দিল্লির তিলক মার্গ থানায় যান। সেখানে অনুষ্ঠানের অনুমতি চাওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সদস্য মোতায়েনের অনুরোধ করা হয়। পরে পুলিশ কর্মকর্তার কাছে অনুষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়। এরপর এফসিসি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় যে দিল্লি পুলিশ অনুষ্ঠানটির জন্য অনুমতি দিচ্ছে না।

এর পরিপ্রেক্ষিতে এফসিসির পক্ষ থেকে সদস্যদের কাছে একটি নোটিশ পাঠিয়ে অনুষ্ঠানটি বাতিলের কথা জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় নির্ধারিত ‘ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া’ অনুষ্ঠানটি দিল্লি পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। আকস্মিক এই পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

এফসিসির সভাপতি ওয়ায়েল আওয়াদ দ্যা প্রিন্টকে বলেন, ‘অনুষ্ঠানটির মূল বিষয় ছিল অংশীদারত্ব ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা। তার ভাষায়, এটি ছিল একটি বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা। তবে দিল্লি পুলিশ কেন অনুষ্ঠানটির অনুমতি দেয়নি, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।’

অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের নিউ দিল্লি জেলার ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) সচিন শর্মা অনুষ্ঠানে পুলিশের হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের প্যানেল আয়োজনের জন্য এফসিসির পুলিশের অনুমতির প্রয়োজন নেই। পুলিশের পক্ষ থেকেও তাদের কোনো অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করা হয়নি।’

তবে দ্যা প্রিন্ট-এর হাতে আসা একটি নথিতে দেখা গেছে, অনুষ্ঠানের জন্য ‘কোনো অনুমতি’ দেওয়া হচ্ছে না বলে পুলিশ উল্লেখ করেছে। তিলক মার্গ থানার সিলযুক্ত ওই নথিতে বলা হয়েছে, ‘কিছু বিতর্কের’ কারণে অনুষ্ঠানটি অনুমোদন করা হচ্ছে না।

নিরাপত্তার জন্য পুলিশ চেয়েছিল এফসিসি

পুলিশের কাছে পাঠানো এফসিসির একটি চিঠিতেও অনুষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে এফসিসির সহকারী ব্যবস্থাপক জানান, ২৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ক্লাবে একটি সেমিনার কাম প্রেস কনফারেন্স আয়োজন করা হবে।

অনুষ্ঠানে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েনের অনুরোধও করা হয় ওই চিঠিতে। তবে পুলিশ পরে অনুষ্ঠানটির অনুমতি না দেওয়ার কথা জানায়। এরপরই এফসিসি অনুষ্ঠানটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।

এদিকে এফসিসির একটি সূত্র দ্যা প্রিন্টকে দাবি করেছে, গত ৫ আগস্ট একই ক্লাবে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর থেকেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ওই সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, তিনি ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন।

এফসিসির ওই সূত্রের দাবি, দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের সমালোচনা করা হয়েছিল। এবার প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানের প্যানেলে একজন পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতা এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে কাজ করা আরেকজন বুদ্ধিজীবী থাকায় অনুষ্ঠানটির অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠান বাতিলের কারণ হিসেবে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন, আওয়ামী লীগ নেতা বা রোহিঙ্গা অধিকারকর্মীর উপস্থিতির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

এদিকে দিল্লি পুলিশ একদিকে অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করলেও, দ্যা প্রিন্ট-এর হাতে আসা নথিতে অনুষ্ঠানের অনুমতি না দেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে ‘কিছু বিতর্কের’ কারণে অনুষ্ঠানটি অনুমোদন না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর