Thursday 03 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস আজ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:২৫ | আপডেট: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:২০

বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ৩ সেপ্টেম্বর এক বহুল আলোচিত ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ২০০৮ সালের এই দিনে তৎকালীন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দীর্ঘ ১৮ মাস (৫৫৪ দিন) কারাবন্দী থাকার পর জামিনে মুক্ত হয়েছিলেন বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাজধানীর তৎকালীন পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুক্তির সংবাদটি যখন আসে, তখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেদিনের স্মৃতি, দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাসজীবন এবং রাজপথ থেকে ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরে আসার গল্প নিয়েই এই বিশেষ নিবন্ধ।

২০০৭ সালের ৭ মার্চ ভোররাতে ঢাকার মঈনুল হোসেন রোডের তৎকালীন সেনানিবাসের বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তৎকালীন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানকে। ১/১১-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সে সময় একের পর এক মামলা দেওয়া হয় তাঁর বিরুদ্ধে। কারাবন্দী অবস্থায় বিভিন্ন সময় তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলে দলটির নেতাকর্মীরা।

বিজ্ঞাপন

পরবর্তীকালে শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয় পিজি হাসপাতালে। বিএনপির নেতাদের দাবি অনুযায়ী, কারান্তরীণে থাকা অবস্থায় নির্যাতনের শিকার হওয়ায় তাঁর মেরুদণ্ডে মারাত্মক আঘাত লাগে, যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের পথকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়।

সকল মামলায় জামিন পাওয়ার পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে পিজি হাসপাতালের বি ব্লকের চিকিৎসাধীন কক্ষ থেকে জামিনে মুক্তি পান তারেক রহমান। মুক্তির সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই পিজি হাসপাতাল এলাকা, শাহবাগ এবং আশপাশের সড়কে হাজার হাজার বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থক জমায়েত হন। হুইলচেয়ারে করে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় তাঁর শারীরিক ভঙ্গুরতা প্রত্যক্ষ করেছিল দেশবাসী, যা কর্মীদের মাঝে তীব্র আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।

কারামুক্তির ঠিক আট দিন পর, ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতের চিকিৎসার জন্য বিদেশ গেলেও দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই পথ দীর্ঘ হতে থাকে। এক পর্যায়ে যুক্তরাজ্যেই দীর্ঘ প্রবাসজীবন কাটাতে হয় তাঁকে। বিদেশের মাটিতে অবস্থান করেও জুম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে টানা দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন পুনর্গঠনে সরাসরি নেতৃত্ব দেন তিনি। দীর্ঘ ১৭ বছর বা ৬ হাজার ৩১৪ দিন তাঁকে কাটাতে হয়েছে প্রবাসে।

দীর্ঘ প্রবাসজীবনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর তিনি রাজনৈতিক পুনর্গঠন ও জাতীয় নির্বাচনে নেতৃত্ব দেন এবং গণমানুষের গণরায় নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এর অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা তারেক রহমানের কারাবাস ও সে সময়ের নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে বক্তব্য দেন।

বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে ৩ সেপ্টেম্বর কেবল একটি তারিখ নয়; এটি একটি প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে জয় করার প্রতীকী দিন। রাজপথ, কারাগার, দীর্ঘ প্রবাস ও শেষমেশ ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে আসার এই যাত্রা বাংলাদেশের আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম চর্চিত ঘটনা।

 

 

সারাবাংলা/এফএন/ এএ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর