ঢাকা: গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে আগামীকাল শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে শান্তিপূর্ণ লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে সর্বশেষ প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘লংমার্চে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি যুক্ত হবে। সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। পথসভার স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের কাচপুর ব্রিজসংলগ্ন ট্রাকস্ট্যান্ড, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও মীরসরাই। সবশেষে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।’
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার মানুষ লংমার্চকে অভিবাদন জানাবে বলে তারা আশা করছেন। নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনগণের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে।’ বিরোধী দলের বৃহৎ এই শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি সফল করতে সরকারকে প্রশাসনিক সহযোগিতা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘লংমার্চে সরকারের কোনো দল বা কেউ প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করলে তারা জনগণের আস্থা হারাবে এবং জনরোষের মুখোমুখি হবে।’ সরকার ও সরকারি দলের কেউ এমন ‘অপরিণামদর্শী’ পথে পা বাড়াবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘সরকার গঠনের ছয় মাস পার হলেও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং গণরায় বাস্তবায়ন থেকে সরকার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘গণভোটের গণরায়ে কোনো নোট অব ডিসেন্ট নেই। গণভোটে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট খারিজ হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সরকার উৎখাতের কোনো আন্দোলন করছি না। জনগণের ও আমাদের দাবি হলো, গণভোটের গণরায় আপনারা মেনে নিন। আমাদের ছয় দফা আপনারা মেনে নিন।’
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিরোধী ও সরকারি দলের মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতা এবং রাজনৈতিক সহিংসতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। গোলাম পরওয়ার বলেন, এখন পর্যন্ত লংমার্চ ঘিরে কোনো নাশকতার আশঙ্কা করছেন না। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির কোনো কারণ নেই।
তিনি জানান, লংমার্চের কর্মসূচি সম্পর্কে ১১ দলের পক্ষ থেকে পুলিশ মহাপরিদর্শককে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
লংমার্চের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘অংশগ্রহণকারী ডেলিগেটরা গাড়ি থেকে নেমে পথসভায় যোগ দেবেন না। স্থানীয় শাখার নেতারা পথসভা বাস্তবায়ন করবেন। বহরের প্রতিটি গাড়িতে স্টিকার থাকবে। চলমান অবস্থায় কোনো গাড়ি বহরে যুক্ত হতে পারবে না; নতুন গাড়ি বহরের শেষে যুক্ত হবে। সংবাদ সংগ্রহের জন্য গণমাধ্যমের গাড়িও বহরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।’
তিনি দেশবাসী ও দলের নেতা-কর্মীদের ধৈর্য, সাহস ও শৃঙ্খলার সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সফল করার আহ্বান জানান।
এর আগে, সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি বৈঠকে মিয়া গোলাম পরওয়ারের পাশাপাশি ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ফখরুল ইসলাম, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসাইনসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।