Sunday 06 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

কোরবানির হাট কাঁপাতে প্রস্তুত ফরিদপুরের ‘রাজাবাবু’, দাম ১৫ লাখ টাকা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২১ মে ২০২৫ ২৩:৪২

ফরিদপুরের ‘রাজাবাবু’

ফরিদপুর: ফরিদপুরে প্রায় ২২ মণ ওজনের ষাঁড় ‘রাজাবাবু’ এখন জেলার সেরা আকর্ষণ। ঈদুল আজহার কোরবানি উপলক্ষ্যে কৃষক পরিবারে লালন-পালন করা বিশাল আকৃতির গরুটি দেখতে ক্রেতা ও উৎসুক মানুষের ভীড় জমে খামারির বাড়িতে। আর বিশালাকার গরুটি দাম ধরা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা।

জেলার নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের দেবীনগর গ্রামের আদেল মোড়ল ও সাহেরা বেগমের বাড়িতে হলস্ট্রিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের গাভি থেকে উন্নত বীজের মাধ্যমে ফ্লেকভি সংকর জাতের ষাঁড়টি জন্ম নেয়। ছোট সময় থেকে দেখতে সুন্দর ও সুঠাম ছিল গরুটি। ওই পরিবারটি ভালবেসে গরুটির নাম দিয়েছে ‘রাজাবাবু’। দুই বছর সাত মাস বয়সের ষাঁড়টির ওজন এখন প্রায় ২২ মণ।

বিজ্ঞাপন

গরুর মালিক আদু মোড়ল জানান, একদিন বয়স থেকেই অতিযত্ন করে গরুটি লালন-পালন করে আসছে। তার বাড়িতে আরও দুটি গাভি আছে। গরু পালাই তার নেশা ও পেশা। গরু লালন-পালনের আয় থেকেই তাদের সংসার চলে।

গরুটির মাথা ও পা গুলো সাদা এবং বাকী সব লাল। ‘রাজাবাবু’ ৬ ফিট ৮ ইঞ্চি লম্বা, ৫ ফিট উচ্চতা ও পেটের মাপ ৮ ফিট ২ ইঞ্চি। বিশালাকৃতির ‘রাজাবাবু’কে দেখতে দূরদূরান্ত থেকে প্রতিদিনই ভীড় করছে তার বাড়িতে।

এদিকে আদু মোড়লের স্ত্রী সাহেরা বেগম বলেন, ‘২-৩ মাস বয়সেই এই বাছুর গরুটি দেখতে এতো সুন্দর হয়েছিল, তখন থেকেই মানুষ অনেক টাকায় কিনতে চাইতো। কিন্তু এতো সুন্দর ও সুঠাম বাছুরটি আমরা নিজেরাই পালার সিদ্ধান্ত নিই। নেপিয়ার ঘাস, খড়, ভুসি, কলা, আপেল, কমলাসহ সাধ্য মত ওকে খাইয়ে এতো বড় করেছি। কেউ যেন চুরি করে না নিয়ে যায় সেই ভেবে গরুর ঘরের এককোণে চকি পেতে আমি ঘুমিয়ে থাকতাম ওর জন্য। কারেন্ট চলে গেলে পাখা দিয়ে বাতাস দিয়ে ভাল রাখার চেষ্টা করি। সন্তানের মত আদর যত্ন করে এতো বড় করে তুলেছি। ভাল দাম পেলে সব কষ্ট ঘুচে যাবে।’

প্রতিবেশী রাজ্জাক শেখ বলেন, ‘আমারও একটা খামার আছে। কিন্তু আমি এতো বড় গরু তৈরি করতে পারিনি। আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকলেও গাভি গরুর পাশাপাশি ষাঁড় পেলেই আদু মোড়লের সংসার চলে। অনেক পরিশ্রম ও এতো দিনের খরচ শেষে কোরবানি ঈদ উপলক্ষ্যে গরুটি প্রস্তুত করছে তারা। তবে গরুর ভাল দাম পেলে ও বড় গরু তৈরিতে উন্নত বীজ এবং সরকারি সহযোগিতা পেলে আগামীতে আমরাও বড় গরু তৈরি করবে।’

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সঞ্জিব বিশ্বাস জানান, ঈদুল আজহাতে কোরবানি উপলক্ষ্যে জেলায় পর্যাপ্ত গবাদিপশু লালন পালন করা হয়েছে। নিষিদ্ধ ইনজেকশন ও স্ট্রেয়েড হরমোন পরিহার করাসহ প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের পক্ষ থেকে গরু পালনে প্রশিক্ষণ ও সব সময় প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন তারা।

প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের তথ্য মতে, জেলায় এ বছর ঈদ উপলক্ষ্যে ১ লাখ ৮ হাজার গবাদি পশুর চাহিদা রয়েছে। যার বিপরীতে গরু, ছাগল, ভেড়াসহ মোট ১ লাখ ১০ হাজার ৮৯১টি পশু প্রস্তুত আছে। যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩ হাজার পশু বেশি। অতিরিক্ত গবাদিপশু জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব।

সারাবাংলা/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো