Sunday 16 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মুন্সিগঞ্জে শ্যামল বেপারী হত্যা: ৩ জনের ফাঁসি, ৮ জনের যাবজ্জীবন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩ মার্চ ২০২৬ ১৬:২১ | আপডেট: ৩ মার্চ ২০২৬ ১৮:৪৮

ঢাকা: তিন বছর আগে মুন্সিগঞ্জের পূর্ব রাখি গ্রামে শ্যামল বেপারীকে হত্যার ঘটনায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং আট আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক শ্যাম সুন্দর রায় এই রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- শাহাদাত বেপারী, জাহাঙ্গীর বেপারী ও ইব্রাহিম বেপারী।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মনির চৌকিদার, হায়াতুল ইসলাম চৌকিদার, হাবিব বেপারী, আশরাফুল খান, হুমায়ুন দেওয়ান, এমদাদ হালদার ওরফে ইমরান, আইয়ুব খাঁ ও লিটন বেপারী।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী আবুল কালাম আজাদ জানান, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদেরও ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

রায়ে উল্লেখ করা হয়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ইব্রাহিম বেপারী এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত লিটন বেপারী, এমদাদ হালদার ওরফে ইমরান ও হাবিব বেপারী বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৩ জুন রাত ১০টার দিকে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন শ্যামল বেপারী। রাত ১টার দিকে পূর্ব বিরোধের জেরে এমদাদ তাকে জরুরি কথা বলার কথা বলে ডেকে তোলে। দরজা খুলতেই শাহাদাত তার হাতে দুটি গুলি করে জাহাঙ্গীর ও ইব্রাহিম পায়ে গুলি করে। পরে আরও কয়েকজন তাকে গুলি করে আহত করে।

গুলিবিদ্ধ হয়ে শ্যামল মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে আসামিরা তাকে টেনে হেঁচড়ে উঠানে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে হাবিব মাথায় গুলি করে এবং শাহাদাত চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথায় কোপ দেয়। গুলির শব্দে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে কয়েকজন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যায়। পরে ভাড়াটিয়া বাচ্চু বিষয়টি শ্যামলের ছোট ভাই ইব্রাহিম মিয়াকে জানান। তাকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় দুই দিন পর, ১৫ জুন মুন্সিগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এ স্থানান্তর করা হয়। গত বছরের ১৪ জুলাই ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।

বিচার চলাকালে ৩৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আসামি শাহাদাত বেপারী ও হায়াতুল ইসলাম নিজেদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন।

সারাবাংলা/টিএম/ইআ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর