Sunday 16 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

আজ শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ করবেন হাজিরা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৭ মে ২০২৬ ১১:২৭ | আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ ১২:২২

মক্কায় প্রতীকী শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করছেন হাজিরা – সংগৃহীত ফাইল ছবি

ঢাকা: বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন আর প্রকৃতির চরম প্রতিকূলতাকে জয় করে মক্কার মরুপ্রান্তরে ধ্বনিত হচ্ছে লাখো কণ্ঠের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’।

গত সোমবার (২৫ মে) পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর পর, মঙ্গলবার (২৬ মে) ইসলামের সবচেয়ে ঐতিহাসিক ও আবেগঘন মহাসমাবেশস্থল আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১৬ লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান। ক্ষমার আকুল আবেদনে আরাফাতের দিনটি অতিবাহিত করার পর, নিয়ম অনুযায়ী হাজিরা রাত কাটান মুজদালিফার খোলা আকাশের নিচে। সেখান থেকে প্রতীকী পাথর সংগ্রহের পর আজ ১০ জিলহজ, বুধবার (২৭ মে) ফজরের নামাজ আদায় করেই লাখো হাজির কাফেলা ধাবিত হচ্ছে মিনার ঐতিহাসিক ময়দানের দিকে। আজ হজের অন্যতম প্রধান ও অপরিহার্য ওয়াজিব আমল হিসেবে মিনায় পৌঁছেই ‘জামারাত আল-আকাবায়’ (বড় শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভে) প্রথম পাথর নিক্ষেপ করবেন হাজিরা ।

বিজ্ঞাপন

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, আজ ১০ জিলহজ বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করার পর হাজিরা পশু কোরবানি করবেন এবং মাথা মুণ্ডন করে ইহরাম ভঙ্গ করবেন। এরপর পরবর্তী তিন দিন (১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ) পর্যায়ক্রমে জামারাতের তিনটি স্তম্ভেই—আল-উলা (ছোট শয়তান), আল-উস্তা (মেজো শয়তান) এবং আল-আকাবা (বড় শয়তান)—পাথর নিক্ষেপ করতে হয়। এই প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের জন্য হাজিরা আগে থেকেই (মূলত মুজদালিফা থেকে) ছোট ছোট কঙ্কর বা পাথর সংগ্রহ করে রাখেন। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নত অনুসরণে শয়তানের প্ররোচনার বিরুদ্ধে নিজেদের অবিচল রাখার অঙ্গীকার হিসেবে এই আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়।

এদিকে, এবারের হজ মৌসুমে সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা ও আশপাশের এলাকায় তীব্র দাবদাহ বিরাজ করছে।

আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, মক্কার তাপমাত্রা ইতোমধ্যে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ সময় হাঁটার কারণে হাজিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ হাজিদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। হাজিদের পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও তরল খাবার গ্রহণ করতে এবং সরাসরি রোদ থেকে বাঁচতে সার্বক্ষণিক ছাতা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মিনা ও জামারাত এলাকায় হাজিদের স্বস্তির জন্য কৃত্রিম কুয়াশা তৈরির (Mist Fans) বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সারাবাংলা/এনএল/এসআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর