ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর। দীর্ঘদিনের একটা প্রচলিত ধারণা হচ্ছে, ইউরোপের বাইরের কোনো লিগে খেললে এই পুরস্কার জেতা অসম্ভব। তবে বিশ্বকাপের ফাইনালের ঠিক আগমুহূর্তে ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষ এমন একটি বার্তা দিয়েছে, যা লিওনেল মেসির ৯ম ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, ইউরোপীয় ক্লাবে না খেললেও বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের ফুটবলার এই পুরস্কার জেতার যোগ্য।
ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষ তাদের বিবৃতিতে অতীতের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, আগে এই পুরস্কার কেবল ইউরোপীয় খেলোয়াড়দের জন্য সীমাবদ্ধ থাকলেও ২০০৭ সাল থেকে সেই নিয়ম আর নেই। এটি এখন পৃথিবীর সেরা খেলোয়াড়কে দেওয়া হয়। সংস্থাটি জানায়, ‘শেষ ১৮টি সংস্করণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিজয়ীদের সবাই ইউরোপীয় ক্লাবে খেলতেন। কিন্তু ব্যতিক্রম ছিলেন লিওনেল মেসি। ২০২৩ সালের অক্টোবরে যখন তিনি অষ্টম ব্যালন ডি’অর জেতেন, তখন তিনি খেলছিলেন ইন্টার মায়ামিতে। তিনিই প্রথম খেলোয়াড় যিনি ইউরোপের বাইরের কোনো ক্লাবের হয়ে এই পুরস্কার জিতেছিলেন।’
ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষের এই ঘোষণার সাথে সাথে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে মেসি ক্রমাগত নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। চলতি বিশ্বকাপে সাত ম্যাচে ৮ গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করে দলকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে তুলেছেন তিনি। এমন অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন জেগেছে—মেসি কি তবে রেকর্ড নবম ব্যালন ডি’অরের দিকে ছুটছেন?
ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী রবিবার স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচটি কেবল বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচই নয়, এটি হতে যাচ্ছে ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়েরও টার্নিং পয়েন্ট। মেসির হাতে যদি বিশ্বকাপের শিরোপা ওঠে, তবে ইউরোপের ক্লাবে না খেললেও তার নবম ব্যালন ডি’অর পাওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার হবে। এর আগে ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষের এই বার্তা যেন আশীর্বাদ হয়ে এলো।