Saturday 25 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মেসির শরীরে ব্রাজিলিয়ান রক্ত!

ক্রীড়া ডেস্ক
২৫ জুলাই ২০২৬ ০৮:৪৬

যদি আপনাকে বলা হয়, লিওনেল মেসির শরীরে বইছে ব্রাজিলিয়ান রক্ত, খানিকটা চমকে উঠতে বাধ্য হবেন বৈকি! অদ্ভুত মনে হলেও এটা সত্যি! একজন ইতালীয় গবেষকের অনুসন্ধানেই বেরিয়ে এসেছে এমন তথ্যই। ফিওরেনজো সান্তিনির আবিষ্কার করেছেন, গত শতকের প্রথম দিকে মেসির মাতামহের পিতা ব্রাজিলের সাও পাওলোর রিবেইরাও প্রেতো শহরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

পেশায় ব্যাংকার হলেও ফিওরেনজো সান্তিনির আসল আগ্রহ ইতিহাসচর্চায়। তিনি খানিকটা আগ্রহের বসেই বের করেছেন মেসির বংশতালিকা।

তরুণ মেসি যখন বার্সেলোনায় নিজের অসাধারণ খেলছিলেন, তখনই সান্তিনির মাথায় এই ভাবনা আসে। ফুটবলপ্রেমী এবং ইন্টার মিলানের কট্টর সমর্থক ফিওরেনজো কৌতুহলী হয়ে ওঠেন ‘মেসি’ পদবির উৎস জানতে।

বিজ্ঞাপন

মেসির প্রপিতামহ অ্যাঞ্জেলো মেসি ইতালির মার্কে অঞ্চলের মাচেরাটা প্রদেশের রেকানাত্তি শহরের বাসিন্দা ছিলেন। ১৮৯৩ সালে তিনি স্ত্রীসহ দেশ ছেড়ে আর্জেন্টিনার রোসারিওর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

ফিওরেনজো জানান, ‘২০১৫ সালে আমি মেসির বাবার সাথে যোগাযোগ করি এবং এই ইতিহাসটি জানাই। কয়েক বছর পর, তার বাবা আবার আমার সাথে যোগাযোগ করেন মেসির মায়ের দিকের বংশধারা খুঁজে বের করার জন্য, যাতে তারা ইতালীয় নাগরিকত্ব পেতে পারেন।‘

ফিওরেনজো সান্তিনির মতে, মেসির মায়ের দিকের পারিবারিক অনুসন্ধানটি শুরু হয় তার প্রপিতামহের পিতা রানিয়েরো কোচ্চেত্তিনিকে দিয়ে, যিনি মেসির বাবার পরিবারের মতোই সান সেভেরিনো মার্কেতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

রানিয়েরো এরপর রোসা রিক্কেজ্জাকে বিয়ে করেন এবং ইতালিতে থাকতেই তাদের জুলিয়া ও ফ্রাঞ্চেসকো নামে দুটি সন্তান হয়। সাও পাওলো রাজ্যের অভিবাসন জাদুঘরের ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৮৯৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ‘ওয়াশিংটন’ নামক জাহাজে চড়ে পরিবারটি ব্রাজিলে এসে পৌঁছায় এবং সান্তোস বন্দরে অবতরণ করে।

তবে বন্দরে পৌঁছানোর পরপরই নথিপত্রে রানিয়েরো কোচ্চেত্তিনির নাম বদলে হয়ে যায় ‘রামেইরো কনচেন্তিনি’। সে যুগে নতুন ভাষার বানান ও উচ্চারণের জটিলতার কারণে অভিবাসীদের প্রথম ও শেষ নাম বদলে যাওয়া বেশ সাধারণ একটি ঘটনা ছিল।

জাদুঘরের নথিতে রামেইরোকে একজন কৃষক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তাকে রিবেইরাও প্রেতো থেকে ৭০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে রিঙ্ক্যাও শহরে ডক্টর মার্তিনহো প্রাদো জুনিয়রের একটি খামারে কাজের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

পরিবারটি সাও পাওলোর ভেতরের অংশে স্থানান্তরিত হয়। সান সেভেরিনো মার্কে পৌরসভার ঐতিহাসিক তথ্য থেকে সান্তিনি জানতে পারেন যে, রিবেইরাওতে রামেইরো ও রোসা দম্পতির আরও দুটি সন্তান জন্ম নেয়। ১৯০০ সালের ১ জানুয়ারি এরমিনিয়ার এবং ১৯০৪ সালের ২৭ জানুয়ারি আর্দেরিগোর জন্ম হয়।

ফেদেরিকোর জন্মের এক বছর পর, ১৯০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পুরো পরিবারটি ব্রাজিলের মায়া কাটিয়ে আর্জেন্টিনায় পাড়ি জমায়। তারা রোসারিও অঞ্চলে গিয়ে বসতি স্থাপন করেন। সেখানেই মেসির নানা আন্তোনিও কুচ্চিত্তিনি এবং মা সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনির জন্ম হয়। আর সবশেষে, ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন জন্ম নেন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি কুচ্চিত্তিনি।

মূলত এই ‘কুচ্চিত্তিনি’ পদবিটিই গবেষককে ব্রাজিলের সংযোগটি খুঁজে পেতে সাহায্য করেছিল, কারণ পুরো ইতালিতে এই পদবির কোনো অস্তিত্বই ছিল না। ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় সান্তিনি মেসির মাতুলালয়ের বংশলতিকা অনুসন্ধানে ব্যয় করেন, ‘গবেষণার সময় আমি খেয়াল করলাম এখানে ‘কুচ্চিত্তিনি’ নামে কেউ নেই। পরবর্তীতে মেসির মায়ের এক কাজিনের কাছ থেকে কিছু কাগজপত্র পেয়ে আমি বিষয়টি বুঝতে পারি, যিনি ব্রাজিলে পৌঁছানোর পর নাম ও পদবি পরিবর্তনের বিষয়টি আমাকে জানান।‘

ফিওরেনজোর এই অনুসন্ধানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে লিওনেল মেসিকে ইতালির সান সেভেরিনো মার্কে শহরের ‘সম্মানসূচক নাগরিক’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।বর্তমানে রিবেইরাও প্রেতোতে মেসির পরিবারের কোনো বংশধরের অস্তিত্ব নেই, কারণ ১৯০৫ সালেই তারা সবাই আর্জেন্টিনায় চলে গিয়েছিলেন। মেসির ইতালীয় পরিবার সাও পাওলো ছেড়ে আর্জেন্টিনায় চলে যাওয়ার ঠিক এক বছর পর, ১৯০৬ সালে মার্তিনিকো প্রাদো মৃত্যুবরণ করেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর