চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুই হত্যা মামলার অভিযুক্ত আসামি ও চিহ্নিত মাদক কারবারি মো. নুরুল ইসলাম প্রকাশ ইরান (৪০) গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে সীতাকুণ্ডের ৪ নম্বর মুরাদপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভাটেরখীল এলাকায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাকে পিটিয়ে হত্যা করে।
স্থানীয় সূত্র জানা যায়, নিহত নুরুল ইসলাম ইরান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। তার বিরুদ্ধে শামীম ও নাইম নামের দুই যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। গত ২০ জুলাই রাতে ইয়াবা হারিয়ে যাওয়ার অজুহাতে নাইম (৩০) নামের এক যুবককে তুলে নিয়ে নির্যাতন চালায় নুরুল ইসলামের সন্ত্রাসী বাহিনী। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় নাইম মারা যান।
নাইম হত্যার পর থেকেই এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শনিবার (২৫ জুলাই) নাইমের জানাজা শেষ হওয়ার পরপরই বিক্ষুব্ধ জনতা ইরান ও তার সহযোগীদের ওপর চড়াও হয়। প্রথমে নুরুল ইসলামকে না পেয়ে তার এক সহযোগীকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে একটি ঘরে তিনি আত্মগোপনে আছেন খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে তাকে ধরে পিটিয়ে হত্যা করে এবং তার বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, নিহত নুরুল ইসলাম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন এবং দুটি পৃথক হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হলেও আটক করা সম্ভব হয়নি। শনিবার গণপিটুনিতে মারা যাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় মারাত্মক আহত অবস্থায় নুরুল ইসলামের এক সহযোগীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এলাকা বর্তমানে শান্ত রয়েছে। আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল রাতে সীতাকুণ্ড পৌরসভার শিবপুর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ শামীমকে (৪০) শ্বশুরবাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ওই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলারও প্রধান আসামি ছিলেন এই নুরুল ইসলাম ইরান।