ঢাকা: রাষ্ট্রায়ত্ত চুক্তির আওতায় ছয়টি দেশ থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরির পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিসহ ৭টি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এর মধ্যে ৫টি ক্রয় প্রস্তাবে মোট ব্যয় হবে ১৬ হাজার ৬৬৫ কোটি ২০ লাখ টাকা।
অপর দুই প্রস্তাবের একটিতে ‘আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড’ কর্তৃক স্থাপিত ‘আশুগঞ্জ ৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল (নর্থ) বিদ্যুৎ কেন্দ্র’ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ে সংশোধিত ট্যারিফ হার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত প্রস্তাবে প্রতি কিলোওয়াট/ঘন্টা ট্যারিফ হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৪.০৯৪৫ সেন্ট। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫.০২৮১ টাকা।
অপর প্রস্তাবে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় ‘সিলেকশন অব ডিজাইন অ্যান্ড সুপারিভিশন কনসালটেন্ট’ কাজে নিয়োজিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের চুক্তির মেয়াদ ২ বছর বৃদ্ধি ও চুক্তিমূল্য সংশোধনের একটি ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় বাড়ছে ৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা।
বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ক্রয় কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে জি-টু-জি মেয়াদি চুক্তির আওতায় চলতি পঞ্জিকা বছরের জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়েরর জন্য ৬টি দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরির পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমাদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- আরব আমিরাতের ‘ইনোক’; চীনের ‘পেট্রো চায়না’; ভারতের আইওসিএল; থাইল্যান্ডের ‘ওকিউটি’; ইন্দোনেশিয়ার ‘বিএসপি’ ও চীনের ‘ইউনিপেক’। বাংলাদেশি মুদ্রায় এতে ব্যয় হবে ১৬ হাজার ৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান ‘রিভার (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় বগুড়া জেলায় ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ’ প্রকল্পের একটি প্যাকেজ কাজ সম্পাদনে ঠিকাদার নিয়োগের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যৌথভাবে এ কাজটি করবে ‘দ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড’ ও ‘মেমার্স আহাদ বিল্ডার্স’। এতে ব্যয় হবে ১২৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।
বৈঠকে সার সংরক্ষণ ও বিতরণের সুবিধার্থে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীপুরে ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ১টি গোডাউন নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ কাজটি যৌথভাবে করবে ‘মেসার্স এমবিএল-আরইএল’। এতে ব্যয় হবে ৪৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা।
বৈঠকে বেজা কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় রাস্তা নির্মাণের একটি প্যাকেজ কাজ সম্পাদনে ঠিকাদার নিয়োগের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ কাজটি করবে ‘মনিকো লিমিটেড’। এতে ব্যয় হবে ১২৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
বৈঠকে একই প্রকল্পের পাওয়ার নেটওয়ার্ক স্থাপনে একটি প্যাকেজ কাজ সম্পাদনে ঠিকাদার নিয়োগের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ কাজটি পেয়েছে ‘রিভেরি পাওয়ার অ্যান্ড অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড’। এতে ব্যয় হবে ২১১ কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।