Wednesday 05 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির কার্যকর উপায়: প্রতিমন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৩ আগস্ট ২০২৬ ১৫:৫৪ | আপডেট: ৩ আগস্ট ২০২৬ ১৮:০১

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

ঢাকা: প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা সুরক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির অন্যতম কার্যকর ও টেকসই উপায় বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে ‘প্রায়োরিটাইজিং নেচার-বেসড ইন্টারভেনশনস ফর রেজিলিয়েন্ট কোস্টাল বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় কারিগরি কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ফ্রেন্ডশিপ ও কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মশালাটি আয়োজিত হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন, জলাভূমি, উপকূলীয় উদ্ভিদবেষ্টনী এবং সমন্বিত কৃষি-বনায়ন ব্যবস্থা কেবল পরিবেশ সংরক্ষনেই ভূমিকা রাখে না, বরং এগুলো প্রাণিসম্পদের জন্য পশুখাদ্যের প্রাপ্যতা বাড়ায়, প্রাণিস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটায় এবং মানবস্বাস্থ্য, প্রাণিস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত স্বাস্থ্যের সমন্বিত ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করলেও দেশের উপকূলীয় অঞ্চল এখনো বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার এবং উপকূলীয় ভাঙন শুধু পরিবেশের ক্ষতি করছে না, বরং অর্থনীতি, খাদ্যব্যবস্থা ও কোটি মানুষের জীবন-জীবিকাকেও মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকার কোটি মানুষের জীবিকার প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে এই খাত দুটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ পরিবার গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া এবং হাঁস-মুরগির ওপর নির্ভরশীল। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এই প্রাণিসম্পদ নিয়মিত আয়, পুষ্টি, কর্মসংস্থান ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনেক পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবেও ভূমিকা পালন করে।

তিনি আরও বলেন, টেকসই প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং তথ্য-প্রমাণভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে সরকার সর্বোচ্চ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে জাতীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব ড. মো. ফরিদুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান এবং কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৌরভ মালহোত্রা।

সারাবাংলা/এফএন/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর