মৌসুম শুরুর আগমুহূর্তে ব্রাজিলিয়ান তরুণ তারকা এন্ড্রিকের রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার জোরালো গুঞ্জন উঠেছিল। ইতালির রোমা এবং প্রিমিয়ার লিগের অ্যাস্টন ভিলার মতো ক্লাব এই তরুণের ওপর নজর রেখেছিল। তবে ‘গ্লোবো স্পোর্ত’ জানিয়েছে, নতুন কোচ হোসে মরিনহোর বিশেষ অনুরোধে এই মুহূর্তে এন্ড্রিককে বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে লস ব্ল্যাঙ্কোসরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাদশে পর্যাপ্ত সুযোগ না পেয়ে রিয়াল ছাড়তে চেয়েছিলেন এন্ড্রিক। তবে মরিনহোর অধীনে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে স্কোয়াডে রেখেই ২০২৬-২৭ মৌসুম শুরুর পরিকল্পনা করছে রিয়াল মাদ্রিদ। এমনকি ঐতিহাসিক ‘৯’ নম্বর জার্সিও পরতে যাচ্ছেন ২০ বছর বয়সী এই তারকা। আগামী ২২ আগস্ট এস্পানিওলের বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচ দিয়ে অফিসিয়াল মৌসুম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ।
মাদ্রিদে এটি এন্ড্রিকের তৃতীয় মৌসুম হতে চলেছে। তার রিয়ালে থেকে যাওয়ার নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছেন হোসে মরিনহো। পর্তুগিজ এই কোচ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এই তরুণ ফরোয়ার্ডকে নিজের স্কোয়াডে দেখতে চান। প্রাক-মৌসুমে এনদ্রিকের পরিশ্রম দেখে মুগ্ধ মরিনহো তাকে সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড এবং রাইট উইঙ্গার- উভয় পজিশনেই ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছেন।
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে ফরাসি ক্লাব অলিম্পিক লিওঁতে ধারে খেলেছিলেন এন্ড্রিক। তবে এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। এন্ড্রিকের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, সেসময় কোচ জাবি আলোনসোর অধীনে তিনি পর্যাপ্ত সুযোগ পেতেন না। কিন্তু বর্তমান কোচ মরিনহোর ইতিবাচক মনোভাবের কারণে নাকি সিদ্ধান্ত বদলেছেন এই তরুণ। তাছাড়া রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে নিজের জায়গা পাকা করা রাতারাতি সম্ভব নয়। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বা রদ্রিগোর মতো তারকারাও একাদশে নিয়মিত হতে কয়েক বছর সময় নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের শেষ দিকে পালমেইরাস থেকে প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ ইউরোর বিনিময়ে এন্ড্রিককে দলে ভেড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। বয়সজনিত বাধ্যবাধকতায় এই চুক্তি কার্যকর হয় ২০২৪ সালের মাঝামাঝিতে। কার্লো আনচেলত্তির অধীনে প্রথম মৌসুমে ৩৭ ম্যাচের ৮টিতে একাদশে থেকে ৭টি গোল করেছিলেন তিনি। তবে গত মৌসুমে জাবি আলোনসোর অধীনে কেবল ৩ ম্যাচ খেলে গোলের দেখা পাননি।
গত জানুয়ারি মাসে ধারে লিওঁতে গিয়ে ফরাসি লিগে ২১ ম্যাচের ১৯টিতেই ছিলেন শুরুর একাদশে। নিজে ৮ গোল করার পাশাপাশি ৭টি অ্যাসিস্টও করেছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ইউরোপীয় দলবদলের বাজার বন্ধ হতে যাচ্ছে। তবে গ্লোবো স্পোর্তের দাবি অনুযায়ী, রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে এনদ্রিকের অন্য কোথাও যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত মাঠের পারফরম্যান্স ও সুযোগ পাওয়ার ওপর ভিত্তি করে পরিস্থিতি পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে।