Tuesday 11 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

অভিবাসীদের মনোজগত দিয়ে বাংলাদেশের জনমিতি বোঝা যাবে না: তথ্যমন্ত্রী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১১ আগস্ট ২০২৬ ২০:৫৭ | আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৬ ০০:১৮

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: অভিবাসী রাষ্ট্রগুলোর ঐতিহাসিক ও নৃতাত্ত্বিক বাস্তবতার সঙ্গে বাংলাদেশের বাস্তবতার কোনো মিল নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, অভিবাসীদের মনোজগত বা অভিজ্ঞতার চশমা দিয়ে বাংলাদেশের জনমিতিকে বোঝা সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে চিটাগাং হিল ট্র্যাক্ট রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘ইন্ডিজেনাস আইডেন্টিটি ইজ ইররিলেভেন্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতিসত্তা কোনো বহিরাগত অভিবাসী জনগোষ্ঠীর দখল ও উচ্ছেদের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠেনি। দীর্ঘ নৃতাত্ত্বিক বিবর্তন, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া ও ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে এ দেশের জনগোষ্ঠী ও জাতিসত্তার বিকাশ ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো অভিবাসী রাষ্ট্রগুলোর ইতিহাসে আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ ও দখলের একটি ঐতিহাসিক বাস্তবতা রয়েছে। সেই ইতিহাসের দায় মোচনে এসব রাষ্ট্রের বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগও দেখা যায়। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাস ও জনমিতির সঙ্গে ওই বাস্তবতার তুলনা চলে না।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের কথা বলার সময়, প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার সময়ও খেয়াল রাখতে হবে, আমরা কোনো পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে এমন একটি শব্দ বা বয়ানকে আবারও জনপ্রিয় করে তুলছি কি না, যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রায়শই অপ্রাসঙ্গিক।”

বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর মধ্যে কোনো একক বা একমাত্রিক নৃতাত্ত্বিক পরিচয় নেই উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, হাজার বছরের ইতিহাসে নানা জনগোষ্ঠীর সংমিশ্রণ ও সাংস্কৃতিক মিথস্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এ দেশের সমাজ ও জাতিসত্তা গড়ে উঠেছে। এই বহুত্বের মধ্য দিয়েই একটি অভিন্ন রাষ্ট্রীয় পরিচয় গড়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনমিতিকে বুঝতে হলে অভিবাসীদের চশমা দিয়ে দেখা যাবে না। বাংলাদেশের জনমিতিকে বুঝতে হলে আমাদের প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক নৃতাত্ত্বিক বিবর্তনের ধারাকে বুঝতে হবে।”

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠের মনোজগত দিয়ে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সমস্যা সঠিকভাবে বোঝা যাবে না। এ বিষয়ে সমাজবিজ্ঞানের মৌলিক জ্ঞানকে বিবেচনায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

নাগরিকত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ দেশের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নাগরিকত্বের ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদের ধারণাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। এটি বাংলাদেশের জাতিসত্তার নানা বৈচিত্র্য ও সংকটকে একটি অভিন্ন রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের কাঠামোর মধ্যে ধারণ করতে সহায়তা করেছে।

বাংলাদেশের বাস্তবতা, ইতিহাস ও জনমিতিকে বিবেচনায় রেখে সঠিক বয়ান উপস্থাপন করা জরুরি উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “সঠিক প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়া যায়। ভুল উত্তর দিলে তা সংশোধন করা যায়। কিন্তু ভুল প্রশ্নে উত্তর দেওয়ার জন্য নিজেকে যুক্ত না করাই ভালো।”

চিটাগাং হিল ট্র্যাক্ট রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর