ঢাকা: ছেঁড়া-ফাটা ও অচল নোট পরিবর্তন করতে আসা সাধারণ গ্রাহকদের ঘিরে দালালদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর মতিঝিলে সোনালী ব্যাংকের শাখায়।
অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকে নোট পরিবর্তন করতে আসা গ্রাহকদের লাইনের বাইরে নিয়ে গিয়ে কম দামে ছেঁড়া-ফাটা নোট কিনে নেন দালালেরা। পরে ব্যাংকের ভেতর থেকেই এসব নোট পুরো মূল্যে পরিবর্তন করে নেওয়া হয়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) আনোয়ার ইসলাম ও রানা নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক গ্রাহককে লাইন থেকে সরিয়ে নেওয়ার এবং কম দামে তাঁর ছেঁড়া-ফাটা নোট কিনে নেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ওই দুই ব্যক্তি তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং ভয়ভীতি ও হুমকি দেন।
ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দূর-দূরান্ত থেকে অনেক গ্রাহক ছেঁড়া-ফাটা নোট পরিবর্তনের জন্য সোনালী ব্যাংকের এই শাখায় আসেন। ব্যাংকের নিয়মকানুন বা প্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় তাদের অনেকেই দালালদের খপ্পরে পড়েন।
দালালেরা গ্রাহকদের ব্যাংকের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নোট পরিবর্তন না করার জন্য নানা কথা বলেন। পরে গ্রাহকের কাছ থেকে ছেঁড়া-ফাটা নোট তুলনামূলক কম দামে কিনে নেওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব নোট পরে ব্যাংকের ভেতরে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন করে পূর্ণ মূল্য নেওয়া হয়।
এতে একদিকে সাধারণ গ্রাহক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, অন্যদিকে ব্যাংকের স্বাভাবিক সেবাব্যবস্থাও ব্যাহত হয়।
দালালদের এই তৎপরতার বিষয়ে জানতে গেলে আনোয়ার ইসলাম ও রানা নামের দুই ব্যক্তির সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তারা সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখান ও হুমকি দেন।
ঘটনার পর বিষয়টি শাখা ব্যবস্থাপককে জানানো হলে তিনি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদের সময়ও ওই ব্যক্তি সাংবাদিকদের হুমকি দেন।
সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখার ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখানে সাধারণ মানুষকে সেবা দিতে এসেছি, কোনো দালাল চক্র পুষতে আসিনি।’
সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ ও হুমকির ঘটনাটিও গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
শাখা ব্যবস্থাপক আরও জানান, চিহ্নিত দুই ব্যক্তি আনোয়ার ও রানার ছবি প্রিন্ট করে ব্যাংক প্রাঙ্গণে টাঙিয়ে দেওয়া হবে। তারা আবার ব্যাংক এলাকায় এলে দ্রুত তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণ গ্রাহকদের হয়রানি করে কোনো ব্যক্তি যাতে অবৈধভাবে সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হবে। ব্যাংক প্রাঙ্গণে দালালদের তৎপরতা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন শাখা ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম। একই সঙ্গে দ্রুত শাখাটিকে দালালমুক্ত করে সাধারণ গ্রাহকদের নির্বিঘ্নে সেবা দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
গ্রাহকদেরও ছেঁড়া-ফাটা নোট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোনো দালালের মাধ্যমে লেনদেন না করে সরাসরি ব্যাংকের নির্ধারিত কাউন্টার ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।