রাজবাড়ী: ১৭ বছরে ব্যাঙের ছাতার মতো হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। এগুলো এখন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের গড়ে ওঠা সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বাঘুটিয়া গ্রামে নিহত কণিকা রানী মন্ডলের বাড়িতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে, সেগুলো একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। পর্যায়ক্রমে এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, চিকিৎসা অবহেলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। তদন্তে চিকিৎসা অবহেলার সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণ হলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আরও জানান, অবহেলার কারণে একজন মায়ের মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাতেই তিনি সেখানে গেছেন। সরকার এই পরিবারের পাশে থাকবে। ফরিদপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের পর প্রসূতির পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ-ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার পর এই নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। অপারেশনের পর প্রায় ৫১ দিন পর ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। এমন সংবাদ আমাদের সরকারকে ব্যথিত করেছে।
এর আগে, গত ২৯ জুন কণিকা মন্ডল অসুস্থ হলে তাকে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুনি সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্তের তত্ত্বাবধানে কণিকাকে ভর্তি করা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কণিকা মেয়ে সন্তানের জন্ম দেয়। পরদিন আমার স্ত্রীর পেট ফুলে যায় ও তীব্র ব্যথা শুরু হয়। বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো হলে তিনি বিষয়টি নানাভাবে এড়িয়ে যায়। এরপর তাকে রাজধানীর কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরিক্ষার পর চিকিৎসকরা কণিকার পেটে সার্জিক্যাল গজ ব্যান্ডেজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত করতে পারেন। ১৯ আগস্ট রাত ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কণিকা মন্ডল মারা যায়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন তার নিজ তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা শোকাহত পরিবারের হাতে তুলে দেন এবং মাতৃহারা শিশুটির পূর্ণ ভরণপোষণের দায়িত্ব সরকারের পক্ষ থেকে বহন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এ সময় রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, রাজবাড়ী সিভিল সার্জন এসএম মাসুদ ও ফরিদপুর সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফারুক হোসেনসহ সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাবৃন্দ রাজনৈতিক নেতা ও এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।