Tuesday 25 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সোনালী ব্যাংকে পদোন্নতি বৈষম্য দূর করে অন্তত একটি পদোন্নতি দাবি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৫ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৪০

– কোলাজ প্রতীকী ছবি

ঢাকা: রাষ্ট্রায়ত্ত সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী ব্যাংক পিএলসিতে দীর্ঘদিনের পদোন্নতি বৈষম্য দূর করে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অন্তত একটি করে পদোন্নতি দেওয়ার দাবি উঠেছে। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত কর্মকর্তারা এ দাবি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এ দাবিতে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন বঞ্চিত কর্মকর্তারা। স্মারকলিপিতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে রূপালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় মেধা তালিকার শুরুর দিকে অবস্থান করে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরও সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা পদোন্নতির ক্ষেত্রে অন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মকর্তাদের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছেন। বৈষম্যমূলক অর্গানোগ্রাম ও পদোন্নতি নীতিমালার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

বিজ্ঞাপন

স্মারকলিপিতে সোনালী, রূপালী ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একই সময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের বর্তমান পদবির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

এতে বলা হয়, ২০০৯-২০১০ ব্যাচে সোনালী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে যোগ দেওয়া কর্মকর্তারা বর্তমানে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (এসপিও) পদে রয়েছেন। অথচ একই সময়ে রূপালী ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে যোগ দেওয়া কর্মকর্তাদের অনেকেই সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) পদে উন্নীত হয়েছেন।

একইভাবে ২০১১ থেকে ২০১৪ সময়ে অফিসার পদে সোনালী ব্যাংকে যোগ দেওয়া কর্মকর্তারা বর্তমানে প্রিন্সিপাল অফিসার (পিও) বা এক্সিকিউটিভ অফিসার (ইও) পদে রয়েছেন। অন্যদিকে একই সময়ের নিয়োগপ্রাপ্ত রূপালী ও কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে এসপিও পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।
আর ২০১৬ থেকে ২০২০ ব্যাচে সোনালী ব্যাংকে যোগ দেওয়া সিনিয়র অফিসারদের অনেকেই এখনো কোনো পদোন্নতি পাননি। অথচ একই সময়ে রূপালী ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে যোগ দেওয়া কর্মকর্তারা পিও পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বঞ্চিত কর্মকর্তাদের দাবি, শাখা ও ব্যবসার আকারের দিক থেকে সোনালী ব্যাংক অন্য অনেক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের তুলনায় বড়। স্মারকলিপিতে ২০২৫ সালের অর্গানোগ্রামের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, সোনালী ব্যাংকের মোট শাখা ১ হাজার ২৩৫টি। ওই বছর ব্যাংকটির নিট মুনাফা ছিল ১ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা।

অন্যদিকে রূপালী ব্যাংকের শাখা ছিল ৫৩৭টি। তবে মুনাফার পরিমাণ ছিল প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা—স্মারকলিপিতে এমন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ব্যাংকের শাখা ও কার্যক্রমের পরিধি বড় হলেও অনুমোদিত পদের তুলনায় সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা পদোন্নতির ক্ষেত্রে চরম অবমূল্যায়নের শিকার হচ্ছেন।
রূপালীর উদাহরণ টেনে দাবি

স্মারকলিপিতে বলা হয়, রূপালী ব্যাংক পিএলসি ২০২৪ ও ২০২৫ সালের ভিত্তিতে অফিশিয়েটিং পদ্ধতিতে পদোন্নতি দিয়ে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করেছে। ফলে সোনালী ব্যাংকেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও বঞ্চনা দূর করা সম্ভব।

এ অবস্থায় বঞ্চিত কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত বিগত সরকারের সময়ে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বর্তমান গ্রেড থেকে পরবর্তী গ্রেডে অন্তত একটি পদোন্নতি দিতে হবে। এ পদোন্নতি ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া বছরের যে সময়েই পদোন্নতি দেওয়া হোক না কেন, হিসাবের ক্ষেত্রে ‘কাট-অফ ডেট’ ৩১ ডিসেম্বর এবং ‘ইফেক্ট ডেট’ ১ জানুয়ারি নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘদিনের পদোন্নতি জটিলতা নিরসনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে কর্মকর্তাদের মধ্যে তৈরি হওয়া অসন্তোষ ও বৈষম্য কমবে এবং ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর