Thursday 27 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনির অসীম ক্ষমতা

সারাবাংলা ডেস্ক
২৭ আগস্ট ২০২৬ ২০:০২

‘আল্লাহু আকবার’-মাত্র দুই শব্দের এই পবিত্র বাক্যে লুকিয়ে রয়েছে মুমিনের ঈমানি শক্তির মূল উৎস। মহান আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠত্ব ও অসীম মহিমা প্রকাশের এই ধ্বনি বিশ্বাসীদের মনে এক পরম প্রশান্তি ও আধ্যাত্মিক বল সঞ্চার করে। পবিত্র কোরআনের একাধিক স্থানে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের নিজ মহিমা ও বড়ত্ব বর্ণনার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন।

সুরা বনি ইসরাঈলের ১১১ নম্বর আয়াতে এর সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, বলুন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, তার রাজত্বে কোনো অংশীদার নেই এবং দুর্বলতার কারণে তার কোনো অভিভাবকের প্রয়োজন নেই। সুতরাং আপনি পূর্ণ মর্যাদায় তার মহিমা প্রকাশ করুন।’

বিজ্ঞাপন

ইসলামি গবেষকদের মতে, মহান আল্লাহর এই তাকবির ধ্বনি শুধু বান্দার ঈমানকেই শাণিত করে না, বরং এটি শয়তানের প্রভাব ও প্ররোচনাকে গুঁড়িয়ে দেয়ার এক অমোগ অস্ত্র। আজানের মাধ্যমে যখন সমস্বরে ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি বাতাসে ভেসে আসে, তখন তা শয়তানের জন্য চরম অসহনীয় হয়ে ওঠে।

পবিত্র হাদিস শরিফে আজানের এই অলৌকিক প্রভাবের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন সালাতের জন্য আজান দেওয়া হয়, তখন শয়তান প্রচণ্ড লাঞ্ছিত অবস্থায় বায়ু ত্যাগ করতে করতে পলায়ন করে, যেন সে আজানের শব্দ শুনতে না পায়। আজান শেষ হলে সে পুনরায় ফিরে আসে। আবার যখন ইকামত দেওয়া হয়, সে আবারও দূরে সরে যায়। ইকামত শেষ হলে সে মানুষের অন্তরে ঢুকে পড়ে এবং সালাতরত ব্যক্তিকে নানাবিধ অহেতুক বিষয়ে প্ররোচিত করে। স্মরণ করিয়ে দেয় এমন সব বিষয়, যা লোকটির হয়তো চিন্তাতেও ছিল না। ফলে একপর্যায়ে সালাত আদায়কারী ব্যক্তি কত রাকাত সালাত পড়েছে, তাও ভুলে যায়।’ (সহিহ বুখারি: ৬০৮)

এ হাদিস স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, আল্লাহর বড়ত্ব ও মহিমার শব্দ শুনে শয়তান অত্যন্ত লাঞ্ছিত ও অসহায় হয়ে পড়ে। আজান ও ইকামতের মাধ্যমে যখন তাকবির ধ্বনিত হয়, তখন শয়তানের চক্রান্ত সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ নিস্ক্রিয় হয়ে যায়। তবে আজানের পর পরিবেশ শান্ত হলেই সে পুনরায় মানুষের মনোযোগ ইবাদত থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।

যে সমাজে কিংবা পরিবেশে নিয়মিত আজান ও আল্লাহ তাআলার তাকবির উচ্চারিত হয়, সেখানে শয়তানি চক্রান্তের প্রভাব অনেকটাই কমে যায়। ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি মানুষের হৃদয়কে জাগ্রত করে এবং অন্তরে তাকওয়া, সাহসিকতা ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ নির্ভরতা সৃষ্টি করে। ফলে দৈনন্দিন জীবনের ভয়-ভীতি, হতাশা ও মানসিক অস্থিরতা দূর হয়ে মুমিনের আত্মা প্রফুল্ল হয়ে ওঠে।