Sunday 30 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ই-কমার্সে শৃঙ্খলা ফেরাতে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার: সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৩০ আগস্ট ২০২৬ ২০:৩৮

জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির – ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: দেশের বহুল আলোচিত ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে তিন ধাপের নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে অতীতের অনিয়মের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের পাওনা টাকা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া তদারকি করা হচ্ছে। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ-এর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, দেশের ই-কমার্স খাত ধারণার চেয়েও দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি গ্রাহক প্রতারণা ও অনিয়মের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং প্রতারণা বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা, ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা এবং ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি নিবন্ধন নির্দেশিকা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি বা ডিবিআইডি চালুর ফলে প্রতিটি বৈধ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের আইনি তথ্য সরকারের কাছে সংরক্ষিত থাকছে, যা মূলত ভুয়া ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা বন্ধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

বিজ্ঞাপন

সংসদে ই-কমার্স খাতের বিগত সময়ের আর্থিক কেলেঙ্কারির চিত্র তুলে ধরা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বিগত সময়ে দেশের একাধিক বহুল আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান সাধারণ গ্রাহকদের সঙ্গে বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম ও প্রতারণা চালিয়েছে। এর মধ্যে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউকম, ধামাকা শপিং এবং আলেশা মার্টসহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে বিপুল সংখ্যক লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতারিত গ্রাহকরা বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত সর্বমোট ৫৮ হাজার ৭২০টি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। ভুক্তভোগী গ্রাহক ও পণ্যের বিক্রেতাদের দাখিল করা এসব অভিযোগের বিপরীতে দাবিকৃত মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং গ্রাহকদের এই বিপুল পরিমাণ পাওনা অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়া তদারকি করতে সরাসরি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

পরবর্তীকালে সংসদ সদস্যের উত্থাপিত একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে ইভ্যালি বা আলেশা মার্টের মতো প্রতিষ্ঠানে আটকে থাকা সাধারণ মানুষের হাজার হাজার কোটি টাকা ফেরত দেয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতের অনিয়মের কারণে সাধারণ গ্রাহকরা যে মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তা বর্তমান সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে জমা পড়া ৫৮ হাজারেরও বেশি লিখিত অভিযোগ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্তদের পাওনা টাকা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক তদারকি সার্বক্ষণিকভাবে অব্যাহত রাখা হয়েছে। সরকার ই-কমার্স খাতের পূর্ণাঙ্গ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গাটি পুনরুদ্ধার করতে প্রয়োজনীয় সব ধরণের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর