Monday 31 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

হিমায়িত খাদ্য রফতানিতে ২ হাজার কোটি টাকার ঘূর্ণায়মান তহবিল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩১ আগস্ট ২০২৬ ১৪:২৯

ঢাকা: হিমায়িত খাদ্য, বিশেষ করে চিংড়ি ও মাছসহ রফতানিমুখী খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে অর্থায়নের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত এ তহবিলের মেয়াদ হবে তিন বছর এবং এটি ঘূর্ণায়মান (রিভলভিং) ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে (৩০ আগস্ট) জারি করা সার্কুলারে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক এ তহবিলের আওতায় অর্থায়ন সুবিধা দেওয়ার সুযোগ পাবে। এজন্য আগ্রহী ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগ-২-এর সঙ্গে অংশগ্রহণকারী চুক্তি করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, হিমায়িত খাদ্য খাত বর্তমানে দেশের অন্যতম রফতানিমুখী খাত। বিশেষ করে হিমায়িত চিংড়ি, মাছ, সবজি ও রেডি-টু-কুক খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এ খাতের উদ্যোক্তাদের দীর্ঘ ক্যাশ কনভার্সন সাইকেল, উচ্চ মজুদ ব্যয়, কোল্ড-চেইন পরিচালনার খরচ এবং স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়ার সীমাবদ্ধতার মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগের লক্ষ্য হলো রফতানি বহুমুখীকরণ, বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে সহায়তা করা।

তহবিলের অর্থে রফতানির জন্য হিমায়িত চিংড়ি, মাছ ও মাছজাত পণ্য এবং অন্যান্য হিমায়িত খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রফতানিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজে ঋণ দেওয়া যাবে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষকদের কাছ থেকে কাঁচামাল ক্রয়, উৎপাদন ও সংগ্রহ, কারখানা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা।

এ ছাড়া হিমায়িত খাদ্য সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, বন্ধ বা আংশিক বন্ধ মাছ ও খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা পুনরায় চালু করা, উৎপাদন-প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন এবং পরিবেশগত ক্ষতি প্রশমনের ব্যয়ও এ তহবিলের আওতায় আনা হয়েছে।

গ্রাহক পর্যায়ে এ তহবিলের ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত শিডিউল অব চার্জেসে উল্লেখিত চার্জ বা ফি ছাড়া গ্রাহকের কাছ থেকে অন্য কোনো ধরনের চার্জ বা ফি নেওয়া যাবে না। তহবিলের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংককে ৪ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে।

নতুন হিমায়িত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা নির্মাণে এ তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা মেয়াদি ঋণ দেওয়া যাবে। বিদ্যমান কারখানা সংস্কার, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে প্রকল্পপ্রতি সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে।

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য মূল প্রকল্প ঋণের বাইরে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা অথবা মূল প্রকল্প ঋণের ৩০ শতাংশ—যেটি কম—পর্যন্ত অতিরিক্ত ঋণ দেওয়া যাবে।

সম্পূর্ণ নতুন কারখানা স্থাপনের জন্য সর্বোচ্চ এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ৭ বছর মেয়াদে ঋণ দেওয়া যাবে। আর বিদ্যমান অবকাঠামো সংস্কার, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৫ বছর মেয়াদে ঋণ দেওয়া যাবে।

চলতি মূলধন ঋণের মেয়াদ হবে এক বছর। ব্যবসায়িক লেনদেন সন্তোষজনক হলে তা সর্বোচ্চ একবার নবায়ন করা যাবে। তবে নবায়নের মাধ্যমে কোনো গ্রাহক এ তহবিলের আওতায় সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত সুবিধা পাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত ঋণগ্রহীতা বা প্রতিষ্ঠানকে এ তহবিলের আওতায় ঋণ দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে একই খাতে আগে থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকারের অন্য কোনো তহবিলের ঋণ সুবিধা চলমান থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নতুন করে একই খাতে এ তহবিল থেকে ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবে না।

ঋণ দেওয়ার আগে ব্যাংককে গ্রাহকের ঝুঁকি বিবেচনা করে ঋণের সীমা নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট সব নিয়ম-কানুন পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে।

গ্রাহক পর্যায়ে দেওয়া ঋণ আদায়ের সব দায়-দায়িত্ব ঋণ বিতরণকারী ব্যাংকের ওপর থাকবে। গ্রাহকের কাছ থেকে ঋণ আদায়ের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাওনাকে সম্পৃক্ত করা যাবে না। নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক-অর্থায়ন করা অর্থ সুদসহ সমন্বয় করা না গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে অতিরিক্ত ২ শতাংশ সুদ দিতে হবে।

এ ছাড়া তহবিলের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। প্রতি তিন মাসে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা কারখানা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংকও যেকোনো সময় ব্যাংক শাখা ও ঋণগ্রহীতার কারখানা বা অফিস পরিদর্শন করতে পারবে।

তহবিলের সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুতের চাহিদার ন্যূনতম ১৫ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ উৎস থেকে পূরণের জন্য পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এসব বিশেষ শর্ত পরিপালনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে পরবর্তী সময়ে এ তহবিল বা বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য কোনো তহবিলের আওতায় ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে না।

তহবিলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কোনো শর্ত লঙ্ঘন বা ঋণের অপব্যবহার ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের চলতি হিসাব থেকে গ্রাহককে দেওয়া হারের সঙ্গে অতিরিক্ত ২ শতাংশ সুদে এককালীন অর্থ কেটে নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর