Thursday 03 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না: র‍্যাব ডিজি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:০৫

খুলনা: র‌্যাবের মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেছেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের জন্য দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুন্দর ও স্বাভাবিক রাখতে র‌্যাব সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় র‌্যাব-৬ খুলনার সদর দপ্তরে সুন্দরবনের জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ ও অস্ত্র উদ্ধার উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, র‌্যাবের নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করছে। এর কার্যক্রম এরই মধ্যেই শুরু হয়েছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

বিজ্ঞাপন

অভিযানে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার জন্য গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তথ্য দাতাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করবে। সুন্দরবনে বর্তমানে চার থেকে পাঁচটি দস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। এসব বাহিনীর সদস্যদের অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্টা চলছে।

অতীতে আত্মসমর্পণকারীদের মধ্য থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে পুনরায় জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত সুন্দরবনের ৩১৮ জন দস্যু আত্মসমর্পণ করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ফিরে গেছে। আত্মসমর্পণকারীদের একটি অংশ পুনর্বাসনের সুযোগ পাওয়ার পরও কেন আবার অপরাধে ফিরছে, সেটিই এখন নতুন করে ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা ১০০ শতাংশ তো আর আনতে পারব না। যেহেতু আমরা তাদের সার্বক্ষণিক নজরদারি করতে পারি না। আর কিছু বাস্তব সীমাবদ্ধতাও থাকে।

র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, র‍্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। আত্মসমর্পণের পর কেউ আবার অপরাধে জড়াচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে এবার পুনর্বাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আত্মসমর্পণকারীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে আগের চেয়ে ভালো পুনর্বাসন ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তিনি আরও বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ ছাড়া কাউকে আটক কিংবা মামলা দেওয়া উচিত নয়। ভবিষ্যতে আত্মসমর্পণকারীরা যাতে অহেতুক হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে। বর্তমানে সুন্দরবন এলাকায় কোস্ট গার্ডের একটি ক্যাম্প রয়েছে। সুন্দরবনবাসী চাইলে সেখানে র‍্যাবের একটি ব্যাটালিয়ন গঠনের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা যেতে পারে।

উল্লেখ্য, এবার আত্মসমর্পণকারী ৫৯ জনের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতাব বাহিনীর ৮ জন এবং মিজান বাহিনীর ৭ জন রয়েছেন। তাদের আত্মসমর্পণের সঙ্গে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার করেছে র‌্যাব। উদ্ধার করা হয়েছে ৫৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৪টি খালি কার্তুজ ও ৭টি ওয়াকিটকি। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চারটি শটগান, ৪৭টি ওয়ান শুটার গান, চারটি পাইপগান, তিনটি এয়ারগান এবং একটি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর