Thursday 03 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ফিশিং লিংক পাঠিয়ে মোবাইলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টাকা আত্মসাৎ, গ্রেফতার ২

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:২২

ঢাকা: ‎মোবাইলে ম্যাসেজ পাঠিয়ে ফিশিং লিংকের মাধ্যমে সফটওয়্যার আপডেটের প্রলোভন দেখিয়ে ফোনের নিয়ন্ত্রণ নেয় প্রতারক চক্র। এরপর ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকা আত্মসাতের করে চক্রটি। এমন অভিযোগে প্রতারক চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

‎বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এই তথ্য জানিয়েছেন। ‎গ্রেফতাররা হলেন- শাহীদ আল ইমরান সৌরভ ও মো. সাগর হোসেন।

‎মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, গত ২ জুন মামলার বাদী তার মোবাইল ফোনে সফটওয়্যার আপডেট সংক্রান্ত একটি মেসেজ দেখতে পান। মেসেজটি দেখার পর তার মোবাইল ফোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট হতে শুরু করে এবং মোবাইলের ডিসপ্লে বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা করেও তিনি মোবাইল ফোনটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেননি। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে চালু হলে তিনি মেসেজের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, তার ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরে ব্যাংক হিসাবের স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করে তিনি দেখতে পান, তার হিসাব থেকে বিভিন্ন হিসাবে সর্বমোট ৯ লাখ ৮৬ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। ‎এ ঘটনায় ভূক্তভোগী পল্টন থানায় মামলা দায়ের করে। মামলা দায়েরের পর মামলাটি সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) তদন্ত শুরু করে।

‎তিনি বলেন, তদন্তে ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন টিম গত ২ সেপ্টেম্বর রংপুরে অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। ১ নম্বর আসামি শাহীদ আল ইমরান সৌরভকে রংপুরের ডিসি বাংলোর মোড় সংলগ্ন গোমস্তপাড়া এলাকা থেকে রাত সোয়া ১টায় এবং ২ নম্বর আসামি মো. সাগর হোসেনকে হনুমানতলা, চিকলী রংপুর থেকে রাত আড়াইটার পর গ্রেফতার করা হয়। ‎এ সময় আসামি শাহীদ আল ইমরান সৌরভের থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের ৩টি চেক বই, ১টি ভিসা প্লাটিনাম কার্ড, ১টি ভিসা ডেবিট কার্ড, একটি বাটন ফোন এবং একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।

‎তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার মো. সাগর হোসেন জানায়, সে ফেসবুক ও টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ ও নিয়ন্ত্রণ করত। পরবর্তীতে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ উত্তোলন করে অনলাইন মাধ্যমে দেশের বাইরে অবস্থানরত সহযোগীদের কাছে পাঠাতো। এর বিনিময়ে তারা কমিশন পেত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।

‎সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতারকৃত দুইজনের এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়া এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ‎বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রতারণার মূল রহস্য উদঘাটন এবং এ চক্রের দেশি-বিদেশি অন্যান্য সদস্যদের আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এমএইচ/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর