Sunday 06 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সালমান-আনিসুলের মামলায় আরও ৭ সাক্ষী চায় প্রসিকিউশন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:০৩

সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক।

ঢাকা: জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে আরও সাতজন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়ার আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। তবে মামলার এ পর্যায়ে নতুন করে সাক্ষী যুক্ত করার উদ্যোগে আপত্তি জানিয়েছে আসামিপক্ষ। তাদের দাবি, এখন অতিরিক্ত সাক্ষী আনা হলে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এ বিষয়ে শুনানি হয়। বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এ সময় চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামসহ প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, মঈনুল করিম ও অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ট্রাইব্যুনালকে বলেন, সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের মামলায় আরও সাতজন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর ডিফেন্স আইনজীবীদের কাছে আবেদনের কপি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজন সাক্ষীকে এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায় অতিরিক্ত সাক্ষী নেওয়ার আবেদনে আপত্তি জানান। তিনি বলেন, প্রসিকিউশন আবেদন করতে পারে, তবে তা মঞ্জুর করা হবে কি না, সেটি ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার। এ মামলায় এরই মধ্যে ১১ জন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। ফরমাল চার্জ দাখিলের সময় প্রসিকিউশন কেন এসব সাক্ষী হাজির করতে পারেনি, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, মামলার এই পর্যায়ে নতুন করে সাক্ষী আনা হলে আসামিপক্ষের প্রস্তুতির জন্য সময় প্রয়োজন। তিনি জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর সাক্ষীদের বিষয়ে জানানো হলেও প্রস্তুতির সুযোগ পাওয়া যায়নি। দলের সিনিয়র আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী অসুস্থ থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ করা হলে জেরার জন্য অন্তত আরও দুই সপ্তাহ সময় দেওয়ার আবেদন করেন তিনি।

এ সময় ট্রাইব্যুনাল মন্তব্য করেন, মামলার যেকোনো পর্যায়ে প্রসিকিউশন অতিরিক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ পেতে পারে।

পরে মামলায় ১২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে মো. শাকিল আহমেদ জবানবন্দি দেন। তিনি ‘ক-গেজেটভুক্ত’ একজন জুলাইযোদ্ধা। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় তিনি এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।

এদিন সকালে কারাগার থেকে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এর আগে, চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর অভিযোগগুলো আমলে নেওয়া হয়েছিল।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক ভূমিকা রেখেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯ জুলাই তাদের মধ্যে ফোনে কথোপকথন হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, ওই কথোপকথনের একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করে দেওয়ার’ কথা বলা হয় এবং সেদিন রাতেই কারফিউ জারির মাধ্যমে আন্দোলন দমনের পরিকল্পনার কথা উঠে আসে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তাদের ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনায় বহু ছাত্র-জনতা নিহত হন এবং নির্যাতন বন্ধে তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, সালমান ও আনিসুলের জ্ঞাতসারে ২৩ জুলাই মিরপুরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, তাদের প্ররোচনা ও উসকানিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় বাহিনী সেখানে হত্যাযজ্ঞ চালায়।

তৃতীয় অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মারণাস্ত্র ব্যবহারে প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, তাদের উসকানি ও সহায়তায় ২৮ জুলাই মিরপুর-১০ এলাকায় হত্যাকাণ্ড ঘটে।

চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়েছে, কারফিউ জারি এবং মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনার মাধ্যমে ৪ আগস্ট মিরপুর-১ এলাকায় আকাশ, সেতু, আলভীসহ ১২ জনকে হত্যা করা হয়। এতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঠেকাতে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক পরিকল্পনা করেন। তাদের নির্দেশে প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলায় মিরপুর-২, মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১৩ এলাকায় আল-আমিন, আশরাফুল, সাব্বির, রিতাসহ ১৬ জন নিহত হন বলে প্রসিকিউশনের অভিযোগ।

সারাবাংলা/টিএম/এনজে
বিজ্ঞাপন

মার্কিন গেম শোয়ের ঘোষক বরখাস্ত
৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৫৪

আরো

সম্পর্কিত খবর