খুলনা: খুলনার কয়রা উপজেলায় প্রথমবারের মতো মরুভূমির ফল রকমেলন চাষ হচ্ছে। ফলটি অল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় কৃষকের মাঝেও বেশ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। ভাসমান বেডে মাচা তৈরি করে ফলটি চাষে সাফল্যের দেখা পেয়েছেন কৃষকরা।
জানা গেছে, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের ইকরা প্রকল্পের সহায়তায় রকমেলন চাষ করে উপজেলার ১০ জন কৃষক সফলতা পেয়েছেন। এছাড়া প্রকল্পের মাধ্যমে অসময়ে তরমুজ চাষের পাশাপাশি মাছ চাষসহ বিভিন্ন শাকসবজি চাষ করছেন তারা। তাদের সফলতা দেখে ওই এলাকার অনেক কৃষকই ঘেরের রাস্তায় অথবা বসতবাড়ির ক্ষেতে রকমিলন ও তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মাদারবাড়ি গ্রামের নমিছা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বল্প ভিটেবাড়িতে মাছ চাষের পাশাপাশি মাচার উপর রকমেলন চাষ করে ভাল ফলন পেয়েছি। এটি ব্যাপক উপকারি একটি ফল। কম খরচে বেশি ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় লাভবান হতে পারব।’
একই ইউনিয়নের নুর ইসলাম সরদার বলেন, ‘আমি প্রতিবছর মাছ চাষের পাশাপাশি ঘেরের পাড়ে বিভিন্ন শাকসবজির আবাদ করে থাকি। ইকরা প্রকল্পের সহযোগিতা নিয়ে রকমেলনের চারা রোপণ করেছিলাম। ফলন ভালো পেয়েছি।’
মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল্যাহ আল মাহমুদ বলেন, ‘কয়রায় একবারই প্রথম রকমেলন চাষ করা হয়েছে। কৃষকরা ভাল ফলন পেয়েছে। তাদের সফলতা দেখে অনেকেই এ ধরনের চাষাবাদে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তিনি এ ধরনের প্রকল্প চলমান রাখার দাবি জানান।’
ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের কয়রার অফিস ইনচার্জ মো. জাহিদুর হাসান বলেন, ‘প্রচারিত ফসলের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করার জন্য প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের সহযোগিতা করা হয়েছে। জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রদর্শনী বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ কাজগুলো করা হচ্ছে। আমাদের এ প্রকল্পের কাজ চলমান থাকবে।’