Wednesday 26 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বাণিজ্য বাড়াতে ডিসিসিআই ও দুবাই চেম্বারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৭:৪৮ | আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:৪৩

ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ এবং দুবাই চেম্বার্স এর সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ আলী রাশেদ লুতাহ

ঢাকা: বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ও দুবাই চেম্বার্স এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুবাই চেম্বার অডিটোরিয়ামে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ এবং দুবাই চেম্বার্স এর সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ আলী রাশেদ লুতাহ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন।

উল্লেখ্য, ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ-এর নেতৃত্বে ২৯ সদস্যের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে ডিসিসিআই থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দ্বি-পাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বহুমুখীকরণ উৎসাহিত করতে এ সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে। এর আওতায় উভয় সংগঠনের অন্তর্ভূক্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বিটুবি ম্যাচ মেকিং এর আয়োজন, যৌথ বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা, বাণিজ্য সভা, মেলা বা প্রদর্শনীর আয়োজন এবং সর্বোপরি বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের আদান প্রদানকে গুরুত্ব দেয়া হবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের অধিকতর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরকারী ডিসিসিআই’র বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণে দুবাই চেম্বার্স আয়োজিত ‘দুবাই-বাংলাদেশ বিজনেস ব্রিফ্রিং’ শীর্ষক দ্বিপাক্ষিক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠিত ওই মতবিনিময় সভায় তাসকীন আহমেদ বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশী প্রবাসীদের জন্য অন্যতম বৃহত্তম একটি বাজার এবং বিদেশে কর্মরত মোট প্রবাসী বাংলাদেশী কর্মীদের মধ্যে প্রায় ১৭ শতাংশই এই দেশটিতে কর্মরত রয়েছে যা সৌদি আরবের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ কাঠামো, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল রেগুলেটরি পরিবেশ, শতভাগ বিদেশি মালিকানার সুযোগ, বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা এবং শক্তিশালী মেধাস্বত্ত সুরক্ষা আইন ইত্যাদি কারণে দুবাই-এর ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলাদেশ হয়ে উঠতে পারে একটি আকর্ষনীয় বিনিয়োগের গন্তব্য। বাংলাদেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগের সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশেষ করে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর লজিস্টিক সেবা খাতে ইউএই’র উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের প্রচুর সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান। এছাড়াও বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ফিনটেক, আর্থিক খাত, স্বাস্থ্য সেবা, তথ্য-প্রযুক্তি, পর্যটন ও মানব সম্পদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য দুবাইয়ের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান ডিসিসিআই সভাপতি।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে দুবাই চেম্বার্স-এর সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ আলী রাশেদ লুতাহ বলেন, বাংলাদেশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দু’দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে দুবাই চেম্বার্স কাজ করে যেতে বদ্ধপরিকর। দুবাইতে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের অধিকতর বাণিজ্য সম্প্রসারণে দুবাই চেম্বারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সাল শেষে দুবাই চেম্বারে নিবন্ধিত বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ হাজার ৬৮৬টি যা কিনা বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের কাছে দুবাইয়ের আকর্ষণকেই প্রতিফলিত করে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাড়াতে ইউএইতে বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থানীয় শাখা অফিস স্থাপনের প্রস্তাব করে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশী উদ্যোক্তাদের মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পাশাপাশি বিশেষ করে আফ্রিকায় বাংলাদেশী পণ্য রফতানি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। তিনি বাংলাদেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইউএইতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এছাড়াও তথ্য-প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশে একটি কার্যকর ডাটা সেন্টার স্থাপন জরুরি বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

সভায় ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনার উপর একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপন করে দু’দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের অধিকতর সম্প্রসারণে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সইয়ের উপর জোর দেন।

অপরদিকে, দুবাই এবং বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক সম্পর্কের উপর আরও একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন দুবাই চেম্বার্স-এর গবেষণা ও তথ্য বিভাগের প্রধান ওমর খান। তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে দুদেশের বেসরকারিখাতের প্রতিনিধিদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন একান্ত জরুরি। প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ডাটা সেন্টার, স্বাস্থ্যসেবা, লজিস্টিক, ফ্যাশন ডিজাইন, ই-কমার্স প্রভৃতি খাতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের ইউএই-তে বিনিয়োগের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে।

বাণিজ্য আলোচনা সভা শেষে দুবাই চেম্বার্স-এর সদস্যভুক্ত ৫০টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সাথে ঢাকা চেম্বারের প্রতিনিধিদলের সদস্যদের বিটুবি ম্যাচ-মেকিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দুদেশের উদ্যোক্তারা নিজেদের মধ্যকার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সারাবাংলা/ইএইচটি/আরএস