Thursday 27 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

নারীর ওপর যৌন নিপীড়নে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষক নেটওয়ার্কের ৫ দাবি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৬ মার্চ ২০২৫ ১৮:৫৯

ঢাকা: দেশে নারীদের ওপর যৌন নিপীড়ন, হয়রানি, হিংসা, বিদ্বেষ, নানা নিপীড়নের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক বলেছে, ‘কোনো ধরনের শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে স্বৈরাচারী কায়দায় নারীর প্রতি অব্যাহত যৌন নিপীড়ন, সহিংসতা ও বিদ্বেষকে প্রশ্রয় দেওয়া হলে সরকার ও সংশ্লিষ্টজনদের এর দায়ভার নিতে হবে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করেছি যে, অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে নারীদের প্রতি যৌন নিপীড়ন, হয়রানি, হিংসা, বিদ্বেষ, অসূয়াসহ নানাবিধ নিপীড়নের ঘটনা উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। নারীরা সমাজের বিভিন্ন স্তরে নানাভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন, মাইক্রো-এগ্রেশনের শিকার হচ্ছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়জন ছাত্রীকে অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী কায়দায় বহিষ্কার করা হয়েছে, যেটি নারীর প্রতি কাঠামোগত (সিস্টেমেটিক) নিপীড়নেরই একটি রূপ বলে আমরা মনে করি। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ন্যাক্কারজনকভাবে নারীবিদ্বেষী কথা বলেছেন এবং সেটির সঙ্গে ধর্ম ও আইনের ভুল-ভাল ব্যাখ্যাকে কৌশলে যুক্ত করে দিয়েছেন।’

বিজ্ঞাপন

বিবৃতি অনুযায়ী, ‘দেশে মব ইনজাস্টিস তৈরি করে বিষোদগারের চর্চা তো বন্ধ হচ্ছেই না, উল্টো তা দিনকে দিন বাড়ছে এবং এবার এর শিকার বানানো হয়েছে দুজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে। খোদ সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ধর্ম টেনে ও আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মব তৈরিকারীদেরই প্রশ্রয় দিয়ে ঘটনার দায়ভার ছাত্রীদের ওপর চাপিয়েছেন যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের দাবিও তুলেছে কতিপয় নারীবিদ্বেষী ব্যক্তি। নামকরণের রাজনীতিকে আমরা কখনোই প্রশ্রয় দেইনি, ভবিষ্যতেও দেব না। কিন্তু বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্মস্থান রংপুরে তাঁর নামাঙ্কিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম যারা পরিবর্তন করতে উদ্যত, তাদের প্রতি সাবধান বাণী উচ্চারণ করে আমরা বলতে চাই, আপনাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা দিয়ে রোকেয়ার মতো মহিয়সী নারীর অবদানকে পরিমাপ করতে যাওয়ার যে ধৃষ্টতা আপনারা দেখিয়েছেন, তা সচেতন নাগরিক ও নারী সমাজ নিন্দাভরে প্রত্যাখ্যান করছে।’

বিবৃতিতে উল্লেখ করা শিক্ষক নেটওয়ার্কের দাবি পাঁচটি নিম্নরূপ-

  • অবিলম্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়জন ছাত্রীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, প্রক্টরের পদত্যাগ এবং পুনরায় একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) প্রতিনিধি ও ছাত্রীদের প্রতিনিধি রেখে নতুন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে পুনরায় তদন্ত করতে হবে এবং ছাত্রদের মব, সাংবাদিকদের ভূমিকা, ফেসবুকে যৌনবাদী মন্তব্যকারী এবং প্রক্টরদের ভূমিকাও বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া।
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন এবং সংলগ্ন এলাকায় নতুন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও যৌন নিপীড়নের বিচার। বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলের মাধ্যমে দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের শাস্তি প্রদানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি।
  • লালমাটিয়ায় মব তৈরি করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ করা দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এমন বক্তব্য কোনো ‘যদি-কিন্তু’ ছাড়া প্রত্যাহার করার।
  • বাসে ধর্ষণের ঘটনার বিষয়ে কাণ্ডজ্ঞানহীন সাংবাদিকতার নিন্দা এবং ওই ডাকাতি ও নারীর প্রতি যৌন নিপীড়নের সঙ্গে যুক্ত অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনা।
  • বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলানোর প্রচেষ্টা নিন্দাভরে প্রত্যাখ্যান।

সারাবাংলা/এফএন/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো