Thursday 27 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

খেলাপি ঋণ আদায়ে ১০ হাজার মামলা, একীভূত হচ্ছে পাঁচ ব্যাংকের ৭৮০ শাখা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৭ আগস্ট ২০২৬ ১৪:২৫ | আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৬ ১৫:৫৪

– কোলাজ প্রতীকী ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: খেলাপি ঋণ আদায়ে প্রায় ১০ হাজার মামলা করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। আরও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির ৭৮০টি শাখা ও ১ হাজার ৫০০টি বিজনেস ইউনিট একীভূত ও যৌক্তিকীকরণের (র‍্যাশনালাইজেশন) কাজ চলছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে ব্যাংকটির Bank Resolution Department (BRD)-এর এক সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ঋণ আদায়, পুনর্গঠন ও সার্বিক কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় জানানো হয়, আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে খেলাপি ঋণ আদায়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রচলিত আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি ঋণ আদায়ে Exit Policy ও Alternative Dispute Resolution (ADR)-এর মতো সমঝোতাভিত্তিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ব্যাংকটির আগের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার সময়ে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি ও সম্পদ অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে পরিচালিত Forensic Audit চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ ও তত্ত্বাবধানে গত ছয় মাসে ব্যাংকটির পুনর্গঠন কার্যক্রমে বেশ কিছু অগ্রগতি হয়েছে। স্বতন্ত্র পরিচালকদের প্রাধান্য দিয়ে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। গত ১৬ জুলাই থেকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া প্রায় ১৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদমর্যাদা, দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোর প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কাজ চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাঁচটি ব্যাংকের কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে Core Banking System (CBS), SWIFT ও RMA-সহ আইটি অবকাঠামো একীভূত করার কাজও এগিয়ে চলছে।

আমানতকারীদের জন্যও চালু করা হয়েছে কমন ইন্টারফেস। এর ফলে পাঁচটি ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে আমানতকারীরা তাঁদের অর্থ তুলতে পারবেন।
শাখা ও বিজনেস ইউনিট পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রেও কাজ চলছে। শাখার অবস্থান, ব্যবসার সম্ভাবনা, গ্রাহকসেবা ও পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে ৭৮০টি শাখা এবং ১ হাজার ৫০০টি বিজনেস ইউনিটের একীভূতকরণ ও পরিচালনগত সমন্বয়ের কাজ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠন, ঋণ আদায়, মামলা নিষ্পত্তি, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, শাখা ও বিজনেস ইউনিট একীভূতকরণ এবং প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করছে BRD।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যাশা, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকটির সুশাসন ও পরিচালন দক্ষতা বাড়বে, ঋণ আদায় ত্বরান্বিত হবে এবং পরিচালন ব্যয় কমবে। একই সঙ্গে ব্যাংকের আটকে থাকা অর্থ উৎপাদনশীল খাতে পুনঃপ্রবাহিত করা সম্ভব হবে।

৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা রাষ্ট্র-মালিকানাধীন বাংলাদেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক হিসেবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সম্পদ ও আমানত ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করাকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর