Friday 28 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সুদানে যৌন সহিংসতার ঝুঁকিতে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ: ইউনিসেফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ মার্চ ২০২৫ ১৩:১২ | আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৫ ১৬:৩৭

ছবি: সংগৃহীত

সুদানে চলমান যুদ্ধের কারণে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ ভয়াবহ যৌন সহিংসতার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। সংস্থাটি বলছে, যৌন সহিংসতাকে দেশটির জনগণকে আতঙ্কিত করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল জানান, গত এক বছরে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ঝুঁকিতে থাকা নারী ও কিশোরীর সংখ্যা ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি পুরুষ ও কিশোরদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের সহিংসতা বাড়ছে।

ইউনিসেফের বিশ্লেষিত তথ্যের বরাতে রাসেল জানান, ২০২৪ সালে সুদানের নয়টি রাজ্যে ২২১টি শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি ঘটনায় পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং চারটি ঘটনায় এক বছরের কম বয়সী নবজাতক ছিল।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘এই তথ্য কেবল ভয়াবহ বাস্তবতার একটি ক্ষুদ্র অংশকে তুলে ধরে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা সামাজিক লজ্জা, প্রতিশোধের আশঙ্কা বা সেবা গ্রহণে সীমাবদ্ধতার কারণে মুখ খুলতে পারেন না।’

বৈঠকে আলোচনার মূল বিষয় ছিল চলমান যুদ্ধের ফলে মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা থাকা ১ কোটি ৬০ লাখ শিশুর দুর্দশা। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সামরিক বাহিনী (এসএএফ) এবং আধাসামরিক র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে লড়াই চলছে। এতে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত এবং ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট তৈরি করেছে।

রাসেল জানান, ২০২৪ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯০০-র বেশি গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই শিশুরা নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছে। এর বেশিরভাগ ঘটনা খার্তুম, আল জাজিরা ও দারফুর রাজ্যে ঘটেছে।

বৈঠকের দিনই সুদানের সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে, আরএসএফ উত্তর দারফুর রাজ্যের রাজধানী এল-ফাশেরে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে, এতে ছয় বছরের কম বয়সী পাঁচ শিশু নিহত এবং চার নারী আহত হয়েছেন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এল-ফাশেরে সংঘর্ষ তীব্রতর হয়েছে। কেন্দ্রীয় সুদানে সেনাবাহিনীর কিছু সাফল্যের পর দারফুরের নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করতে চায় আরএসএফ। দারফুর অঞ্চলের পাঁচটি রাজ্য রাজধানীর মধ্যে এল-ফাশার একমাত্র শহর, যা এখনো আরএসএফের দখলমুক্ত রয়েছে।

সুদানের জাতিসংঘ দূত আল-হারিস ইদ্রিস আল-হারিস মোহাম্মদ বলেন, সুদানি সরকার বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় একটি জাতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

সারাবাংলা/এনজে