Sunday 30 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে ক্যান্টনমেন্ট ও মিরপুরে ছাত্র জনতার বিক্ষোভ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৭ এপ্রিল ২০২৫ ১৫:৪৪ | আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২৫ ১৭:৩৮

ক্যান্টনমেন্টের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে সোমবার ৭ (এপ্রিল) ফিলিস্তিনিদের পক্ষে বিশ্বব্যাপী গড়ে ওঠা আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জড়ো হয়েছেন বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ।

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট ও মিরপুর এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেন। গাজায় ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতেই স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত ছিল ক্যান্টনমেন্টের ইসিবি চত্ত্বর, মিরপুরের কালশী ও মিরপুর ১২ নম্বর এলাকা। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ হয়েছে তাদের অভিভাবক ও মাদরাসার শিক্ষকরাও।

বিজ্ঞাপন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ইসিবি’র সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী হরতাল পালনের আহ্বান জানিয়েছে আমাদের মজলুম গাজাবাসী ভাইবোনেরা। গণহত্যা বন্ধ করার দাবিতে বিশ্বের সকল দেশে একযোগে স্কুল,কলেজ,ভার্সিটি, অফিস,আদালত সব বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। কিন্তু মানুষ কিংবা মুসলিম হিসেবে এসব বন্ধ রাখাতেই আমাদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ হওয়া উচিত নয় বরং দল মত নির্বিশেষে সারাদেশের ছাত্র জনতা একসঙ্গে রাজপথে নেমে ইসরায়েলি খুনিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো উচিত।’

এ সময় উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তানিম আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা হয়তো এই মুহূর্তে আমাদের গাজার ভাইদের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করতে পারব না। কিন্তু তাদের লড়াইয়ের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করতে নিজ ভূমির রাজপথে অন্তত নামতে পারব। তাই আমরা রাজপথে নেমে ফিলিস্তানিদের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করছি। এনসিপি, বিএনপি, জামায়াত, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কিংবা অন্য কোনো দলের ব্যানারে নয় বরং দল-মত নির্বিশেষে ‘বাংলাদেশ’ ব্যানারে আমরা রাজপথে নেমে গাজার গণহত্যার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। খুনি, রক্তপিপাসু নেতানিয়াহুর বিপক্ষে স্লোগান দিচ্ছি । জাতিসংঘকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।’

বিভিন্ন ধরনের ব্যানার ফেস্টুন হাতে প্রতিবাদ করেন বিক্ষভকারী জনতা। ছবি: সারাবাংলা

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সদস্য মুনিমা জাহান বলেন, ‘প্রত্যেক জেলায় ছাত্র জনতার প্রতিনিধি হিসেবে কয়েকজন মিলে দায়িত্ব নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। কোনো দল, মত, পক্ষের হয়ে নয় বরং বাংলাদেশের পক্ষ হতে গাজার মজলুম মানুষের পক্ষে আমরা দাঁড়িয়েছি। বিশেষ করে, এতো মুসলিম নারী ও শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে, যা খুবই দু:খজনক। আমরা এই যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে আন্দোলন করছি।’

হাতে ফিলিস্তিনিদের পতাকাসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যানার ফেস্টুন হাতে তারা প্রতিবাদ করেন। ছোট্টো সন্তানকে সঙ্গে নিয়েও আন্দোলনে শরিক হয়েছেন অনেক মায়েরা।

সমাবেশে ইসরায়েলের প্রতি পশ্চিমা বিশ্বের সহানুভূতিকে মানবতাবিরোধী বলেছে বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভকারীরা বলেন, ‘সব কিছুর উর্ধ্বে উঠে প্যালেস্টাইন এবং প্যালেস্টাইনের জনগণকে বাঁচাতে হবে।’

সারাবাংলা/এফএন/এসডব্লিউ