Saturday 04 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

যে কারণে ঈমান ধ্বংস হচ্ছে

সারাবাংলা ডেস্ক
৪ জুলাই ২০২৬ ১৯:২১

‘ঈমান’ একজন মুসলিমের জীবনে সবচেয়ে বড় এবং মূল্যবান সম্পদ হলো তার । এটি কেবল মুখের কিছু শব্দ নয়, বরং অন্তরের বিশ্বাস, মুখের স্বীকৃতি এবং কর্মের এক অপূর্ব সমন্বয়। ঈমানই আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্কের মূল ভিত্তি। তবে কিছু মারাত্মক ভুল, বিশ্বাস ও কর্মকাণ্ডের কারণে এই মহামূল্যবান সম্পদটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

আসুন জেনে নেই, ঈমান ভঙ্গ বা ধ্বংস হওয়ার প্রধান কারণগুলো…

আল্লাহর ইবাদতে শিরক বা অংশীদারিত্ব করা

ঈমান ধ্বংসের সবচেয়ে বড় এবং প্রধান কারণ হলো মহান আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে শরিক করা। আল্লাহ তাআলা সুরা আন-নিসার ৪৮ নম্বর আয়াতে স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না।’ আল্লাহর সমকক্ষ কাউকে মনে করা বা তাঁর একমাত্র প্রাপ্য ইবাদত অন্য কাউকে দেওয়া স্পষ্ট কুফরি।

বিজ্ঞাপন

আল্লাহ ও নিজের মাঝে মধ্যস্থতাকারী তৈরি করা

সরাসরি আল্লাহর কাছে না চেয়ে কোনো সৃষ্টিকে মধ্যস্থতাকারী বা চূড়ান্ত ভরসার কেন্দ্র বানানো ঈমানকে ধ্বংস করে দেয়। সুরা আল-মায়েদার ২৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যদি তোমরা মুমিন হও তবে আল্লাহর ওপরই ভরসা করো।’ একজন মুমিন যেকোনো পরিস্থিতিতে কেবল আল্লাহর ওপরেই পূর্ণ তাওয়াক্কুল বা ভরসা রাখবেন।

কুফর ও শিরককে সত্য মনে করা বা সন্দেহ পোষণ করা

ইসলামের অকাট্য সত্যগুলোকে অস্বীকার করা কিংবা অমুসলিমদের কুফরি আদর্শকে সঠিক মনে করা ঈমান ভঙ্গের কারণ। একইভাবে, ইসলামের শাশ্বত বিধানের সত্যতা নিয়ে মনে কোনো প্রকার সংশয় বা সন্দেহ পোষণ করলেও ঈমান আর অবশিষ্ট থাকে না।

নবীজির আদর্শের চেয়ে অন্য কোনো মতবাদকে শ্রেষ্ঠ ভাবা

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও জীবনদর্শনের চেয়ে মানুষের তৈরি অন্য কোনো নিয়ম, কানুন বা মতবাদকে উত্তম মনে করা ইমানের পরিপন্থী। সুরা আল-হাশরের ৭ নম্বর আয়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ‘রাসুল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো।’ তাঁর দেওয়া বিধানই একজন মুমিনের জন্য চূড়ান্ত।

ইসলামের কোনো বিধান বা আমলকে ঘৃণা করা

পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর কোনো আদেশ, নিষেধ বা বিধানকে মনে মনে অবজ্ঞা, অপছন্দ কিংবা ঘৃণা করা স্পষ্ট কুফরি। সুরা মুহাম্মদের ৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘কারণ তারা আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তা অপছন্দ করেছে, ফলে আল্লাহ তাদের আমলসমূহ নিষ্ফল করে দিয়েছেন।’

দ্বীন, শরিয়ত বা আল্লাহর শাস্তি-পুরস্কার নিয়ে উপহাস করা

ধর্মের কোনো বিষয়, মহান আল্লাহর আয়াত, রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ কিংবা পরকালের জান্নাত-জাহান্নাম নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করা ঈমান ধ্বংসের অন্যতম কারণ। সুরা আত-তাওবার ৬৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘বলো, তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াত ও তাঁর রাসুলকে নিয়ে ঠাট্টা করছিলে?’

জাদু-টোনা বা কালো জাদুর চর্চা করা

জাদু করা, করানো কিংবা জাদুর সত্যতায় বিশ্বাস রাখা গুরুতর কবিরা গুনাহ এবং এটি ইমানকে নষ্ট করে দেয়। সহিহ বুখারির এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) সাতটি ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, যার মধ্যে অন্যতম একটি হলো এই জাদু-টোনা।

মুসলিমদের বিরুদ্ধে শত্রুদের পক্ষ নেওয়া ও সাহায্য করা

ইসলাম ও মুসলিমদের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে কোনো অমুসলিম বা ইসলামের শত্রুদেরকে সহযোগিতা করা ঈমানি চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। সুরা আল-মায়েদার ৫১ নম্বর আয়াতে এ প্রসঙ্গে কঠোরভাবে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে যে তাদের বন্ধু বানাবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।’

ইসলাম বহির্ভূত বিধানকে বৈধ মনে করা

জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রে ইসলামের ঐশী আইনের বাইরে অন্য কোনো মানব রচিত আইন বা বিধানকে ইসলামের চেয়ে উত্তম, সমান কিংবা সম্পূর্ণ বৈধ মনে করা ইমানের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।

আল্লাহর দ্বীন থেকে পুরোপুরি বিমুখ থাকা

দ্বীনি জ্ঞান অর্জন না করা, আল্লাহর ইবাদত থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা এবং ইসলামের বিধিবিধানের প্রতি বিন্দুমাত্র পরোয়া না করে উদাসীন জীবনযাপন করা ঈমান হারানোর অন্যতম বড় কারণ। সুরা ত্বাহার ১২৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে, তার জীবন সংকীর্ণ হবে।’

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি