বিশ্বজুড়ে আজ (২৯ জুলাই) পালিত হচ্ছে বিশ্ব লিপস্টিক দিবস। সৌন্দর্যচর্চার অন্যতম জনপ্রিয় এই প্রসাধনীকে ঘিরে প্রতিবছর দিনটি উদযাপন করেন ফ্যাশনপ্রেমী, মেকআপ শিল্পী এবং প্রসাধনী প্রতিষ্ঠানগুলো। এ উপলক্ষে বিভিন্ন ব্র্যান্ড নতুন শেড বাজারে আনে, বিশেষ মূল্যছাড় দেয় এবং আয়োজন করে নানা প্রচারণামূলক কর্মসূচি।
একসময় লিপস্টিক ছিল কেবল সাজের অনুষঙ্গ। তবে সময়ের সঙ্গে এটি আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব ও নিজস্ব রুচি প্রকাশের প্রতীক হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি উপযুক্ত লিপস্টিক মুহূর্তেই বদলে দিতে পারে একজন মানুষের উপস্থিতি ও আত্মবিশ্বাস।
লিপস্টিকের ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার নারীরা মূল্যবান খনিজ গুঁড়া দিয়ে ঠোঁট রাঙাতেন। পরে প্রাচীন মিসরে নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই ঠোঁটে রঙ ব্যবহারের প্রচলন দেখা যায়। ইতিহাসে উল্লেখ আছে, রানি ক্লিওপেট্রাও প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি লাল রঙের ঠোঁটের প্রসাধনী ব্যবহার করতেন। আধুনিক বাণিজ্যিক লিপস্টিকের যাত্রা শুরু হয় উনিশ শতকের শেষদিকে, যা পরে ধাতব টিউবের মাধ্যমে আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
লিপস্টিককে ঘিরে রয়েছে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্যও। নারী ভোটাধিকারের আন্দোলনে লাল লিপস্টিক প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও লিপস্টিকের উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল মানুষের মনোবল ধরে রাখার প্রতীক হিসেবে। এমনকি বিশ্বের সবচেয়ে দামি একটি লিপস্টিকের মূল্য ছিল প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যার গায়ে বসানো হয়েছিল আসল হীরা।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, শুধু রঙ নয়, লিপস্টিক কেনার সময় এর উপাদান, মান ও মেয়াদও যাচাই করা জরুরি। ঠোঁটের আর্দ্রতা বজায় রাখে এমন পণ্য ব্যবহার, অন্যের ব্যবহৃত লিপস্টিক এড়িয়ে চলা এবং দিনের শেষে মেকআপ ভালোভাবে পরিষ্কার করে ফেলা নিরাপদ অভ্যাস।
হাজার বছরের ইতিহাস পেরিয়ে আজ লিপস্টিক কেবল একটি প্রসাধনী নয়, বরং ফ্যাশন, সংস্কৃতি ও আত্মপ্রকাশের এক অনন্য প্রতীক।