Sunday 06 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

খাওয়ার সময় টিভি বা মোবাইল দেখা কি উচিত?

সারাবাংলা ডেস্ক
৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:০৭ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:১০

খাবার খাওয়ার সময় টিভি দেখা বা স্মার্টফোনের স্ক্রিনে চোখ রাখা বর্তমান সময়ে প্রায় সবারই নিত্যদিনের অভ্যাস। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও শিশুদের মধ্যে এ প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অনেকেই আবার টেলিভিশনে কার্টুন ছেড়ে দিয়ে কার্টুন দেখতে দেখতে খাবার খান। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রায়ই একটি প্রশ্ন দেখা যায়, এভাবে মোবাইল বা টিভি দেখতে দেখতে খেলে কি খাবার খাওয়া উচিত ?

এ বিষয়ে ধর্মীয় গবেষকদের মত হলো, খাওয়ার সময় স্ক্রিন দেখার কারণে খাবার কোনো অবস্থাতেই হারাম বা নাপাক হয়ে যায় না। তবে এতে ইসলামের সুনির্দিষ্ট কিছু বিধান, শিষ্টাচার ও স্বাস্থ্যগত দিক জড়িয়ে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শরিয়তের বিধান ও আধ্যাত্মিক ক্ষতি

আলেমদের মতে, উপার্জনের উৎস ও খাবার হালাল হলে কেবল খাওয়ার সময়ের আচরণের কারণে খাবারের হালালত্ব নষ্ট হয় না। তবে এই অভ্যাসের বেশ কয়েকটি দিক রয়েছে…

কনটেন্টের ধরন: খাওয়ার সময় যদি কোনো বৈধ, শিক্ষণীয় বা ভালো বিষয় (যেমন: সংবাদ, ইসলামী আলোচনা বা প্রয়োজনীয় অনুষ্ঠান) দেখা হয়, তবে তা গুনাহের কারণ নয়। কিন্তু হারাম বা অশ্লীল কিছু দেখলে তা সাধারণ সময়ের মতোই অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

সুন্নতের বরখেলাফ: খাদ্য মহান আল্লাহর দেওয়া অন্যতম বড় নিয়ামত। খাওয়ার সময় মোবাইল বা টিভিতে ব্যস্ত থাকা সুন্নতের পরিপন্থী। নিয়ম হলো, নিয়ামতের মর্যাদা দিয়ে, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থেকে এবং সুন্নত অনুসরণ করে আহার করা।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের সতর্কতা

কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিকোণই নয়, চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতেও খাওয়ার সময় অন্যমনস্ক থাকা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর:

হজম ও পুষ্টির ঘাটতি: খাবারে মনোযোগ না থাকলে পরিপাকতন্ত্র থেকে প্রয়োজনীয় এনজাইম বা পাচক রস ঠিকমতো নিঃসৃত হতে পারে না। ফলে হজমপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং শরীর খাবারের মূল পুষ্টি গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়।

দুর্ঘটনার ঝুঁকি: কথা বলা বা স্ক্রিনে মনোযোগ দেওয়ার ফলে শ্বাসনালীতে খাবার আটকে যাওয়া কিংবা বিষম লাগার মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

দোয়া

খাবারে বরকত বজায় রাখতে এবং অপশুভ প্রভাব থেকে বাঁচতে রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দিষ্ট দোয়া পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন।

খাওয়ার শুরুতে:

বিসমিল্লাহি ওয়া আলা বারাকাতিল্লাহ

(অর্থ: আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর বরকতের ওপর খাওয়া শুরু করছি।)

(শুরুতে বলতে ভুলে গেলে মনে পড়ার পর বলবেন: বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু)

খাবার শেষে:

আলহামদুলিল্লাহিল্লাযী আতআমানা ওয়া সাকানা ওয়া জাআলানা মিনাল মুসলিমীন

(অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের খাওয়ালেন, পান করালেন এবং মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত করলেন।)

দস্তরখান তোলার সময়:

আলহামদুলিল্লাহি হামদান কাসীরান তায়্যিবান মুবারাকান ফীহি গায়রা মাকফিয়্যিন ওয়া লা মুওয়াদ্দায়িন ওয়া লা মুসতাগনান আনহু রাব্বানা

(অর্থ: আল্লাহর জন্য অগণিত, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা। হে আমাদের রব! এই নিয়ামত থেকে আমরা বিমুখ হতে পারি না এবং এ থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়ারও সুযোগ নেই।)

পরিশেষে বলা যায়, খাবার হারাম না হলেও শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখা এবং নিয়ামতের হক আদায়ের স্বার্থে খাওয়ার সময় মোবাইল বা টিভি ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

বিজ্ঞাপন

ঘরে পিঁপড়ার উপদ্রব? জানুন সমাধান
৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৪৪

আরো

সম্পর্কিত খবর