Wednesday 22 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

টেকনাফ উপকূলে ১২ দিনে ভেসে এল ৫টি মরদেহ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২০ জুলাই ২০২৬ ১৪:২৪ | আপডেট: ২০ জুলাই ২০২৬ ১৮:১৭

টেকনাফ উপকূল।

কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে নাফ নদী থেকে আরও এক অজ্ঞাত যুবকের বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে গত ১২ দিনের ব্যবধানে টেকনাফের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা থেকে মোট পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হলো। একের পর এক মরদেহ ভেসে আসার এই ঘটনাকে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবি বা মানবপাচারের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন।

নাফ নদীর তীরে মিলল যুবকের মরদেহ
রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট সংলগ্ন বিজিবি বিওপির সামনে নাফ নদীর তীর থেকে সর্বশেষ মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। তবে দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় যুবকের চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে, যার ফলে তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মৃত যুবকের আনুমানিক বয়স ৩০-৩৫ বছর। পরনে ছিল গাঢ় নীল রঙের হাফ প্যান্ট ও হালকা সবুজ রঙের জার্সি। মুখে হালকা দাড়ি-গোঁফ রয়েছে। শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও দীর্ঘক্ষণ পানিতে থাকায় ত্বকের রঙ বদলে গেছে।

বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘ ও প্রশাসনের আশঙ্কা: মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবি?
টানা মরদেহ ভেসে আসার বিষয়ে সাবরাং ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, ‘ধারাবাহিকভাবে মরদেহ ভেসে আসার পেছনে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়াগামী কোনো ট্রলারডুবি বা মানবপাচারের যোগসূত্র থাকার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।’

সম্প্রতি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এক যৌথ বিবৃতিতে জানায় যে, জুনের শেষেদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে দু’টি ট্রলার রওনা হয়েছিল। প্রথম ট্রলারে প্রায় ২৫০ জন আরোহী নিয়ে রওনা হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ। দ্বিতীয় ট্রলারে প্রায় ২৮০ জন যাত্রী নিয়ে গত ৮ জুলাই মিয়ানমারের আয়ারওয়াদি উপকূলের কাছে ডুবে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ট্রলার দু’টিতে মিয়ানমারের রাখাইনের রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরের কিছু রোহিঙ্গাও ছিলেন।

পূর্বের উদ্ধারকৃত মরদেহসমূহ
এর আগে, গত ৮ জুলাই টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সেন্টমার্টিন ও রাজারছড়া সৈকত থেকে তিন অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১০ জুলাই শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন সৈকত থেকে আরও একটি মানবকঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ।

পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ
টেকনাফ নৌ পুলিশের এসআই সুমন চন্দ্র নাথ জানান, মৃত ব্যক্তি বাংলাদেশি নাগরিক নাকি রোহিঙ্গা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। পরিচয় শনাক্তে সবধরনের আইনি ও প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, গত কয়েকদিন ধরে বঙ্গোপসাগর প্রচণ্ড উত্তাল এবং আবহাওয়া বৈরী থাকায় সমুদ্র ও নাফ নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে আরও মরদেহ ভেসে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর