Tuesday 21 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

কানের দুলের লোভে স্কুলছাত্রীকে হত্যা, গণপিটুনিতে অভিযুক্ত নারী নিহত

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২১ জুলাই ২০২৬ ০৩:০১ | আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬ ১৫:৩৬

হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী ফারজানা ইয়াসমিন। ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ঝালমুড়ি খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পর শিশুটির কান থেকে সোনার দুল খুলে নিয়ে মরদেহ আলমারির ড্রয়ারে লুকিয়ে রাখা হয়। এ ঘটনা জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে অভিযুক্ত নারী নিহত হন। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ওই নারীর বাড়িঘরে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

সোমবার (২০ জুলাই) রাতে উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাত ৯টার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর পর তারা ওই শিশু ও নারীর মরদেহ উদ্ধার করে।

বিজ্ঞাপন

নিহত ওই স্কুলছাত্রীর নাম ফারজানা ইয়াসমিন। সে কালিগঞ্জ উপজেলার কাশিবাটি গ্রামের ভ্যানচালক এনামুল হকের মেয়ে। ফারজানা ৪১ নম্বর কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। অন্যদিকে গণপিটুনিতে নিহত নারীর নাম সুরাইয়া আক্তার (সুমি)। তিনি একই গ্রামের আমিরুল ইসলামের স্ত্রী। বিদ্যালয়ের সামনেই তিনি ঝালমুড়ির দোকান চালাতেন।

স্থানীয় প্রতিনিধি ও বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফারজানা স্কুলে পৌঁছালে সুরাইয়া তাকে ডেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ঝালমুড়ি খেতে দিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলেন। পরে তার কানের দুল খুলে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা শেষে লাশটি ঘরের আলমারির ড্রয়ারে লুকিয়ে রাখেন।

দুপুরে ক্লাস শেষে ফারজানা বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি ও এলাকায় মাইকিং শুরু করেন। পরে বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সুরাইয়া ফারজানাকে ডেকে নিয়ে যাচ্ছে। তখন বিষয়টি স্থানীয় লোকজন ও পুলিশকে জানানো হয়। পরে বিকেলে পুলিশ সুরাইয়ার বাড়িতে গিয়ে আলমারির ড্রয়ার থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাজারো ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী সুরাইয়ার বাড়ি ঘিরে ফেলেন। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা সুরাইয়াকে আটক করে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে তার ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরে রাত ৯টার দিকে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, সোনার গয়নার লোভে শিশুটিকে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত নারীকে পিটিয়ে হত্যা করে এবং তার বাড়িতে আগুন দেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। নিহত শিশু ও নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর