কক্সবাজার: জেলার টেকনাফে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে ওঠা একটি অনলাইন জুয়া ও বেটিং চক্রের ৯ সদস্যকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সোমবার (২০ জুলাই) রাত দেড়টায় টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) ডেইলপাড়া ও সাবরাং মন্ডলপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস ধরে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের গোয়েন্দা দল একটি সংঘবদ্ধ অনলাইন জুয়াড়ি চক্রের ওপর নিবিড় নজরদারি চালিয়ে আসছিল। চক্রটি বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে এলাকা জুড়ে নতুন সদস্য সংগ্রহের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক বিস্তার করছিল।
২০ জুলাই রাতে গোপন সূত্রে খবর আসে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে চক্রটি মোটা অঙ্কের টাকা বাজিতে খাটাতে অনলাইন বেটিংয়ে সক্রিয় হচ্ছে। তথ্যের ভিত্তিতে ২ বিজিবি’র অধিনায়কের নির্দেশনায় ডেইলপাড়া ও সাবরাং মন্ডলপাড়ার দুটি আস্তানায় একযোগে ঘেরাও অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং ৯ জন জুয়াড়িকে আটক করা হয়। অভিযানকালে আটককৃতদের কাছ থেকে জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত ৯টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজিবির অনুসন্ধানে জানা গেছে, আটক ৯ জনের মধ্যে টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়াও কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের (এফডিএমএন) ৩ জন সদস্য রয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন— সাবরাং আলী ডেইল এলাকার শুক্কুর আলী (২৮), সাইফুল ইসলাম, সাবরাং এলাকার জাফর আলম, হাদুরছড়া এলাকার সোলেমান (১৫) কচুবনিয়ার আব্দুল হান্নান (২৩) কুতুপালং এলাকার নূরুল হাকিম (১৯), জান্নাত উল্লাহ (২২), মোহাম্মদ ইউনুস (২১) ও হাদুরছড়ার মোহাম্মদ ইসমাইল (৩৭)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ শেষে বিজিবি জানায়, চক্রটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ) ব্যবহার করে বিভিন্ন বিদেশি অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্মে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন করত। টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ-এর মাধ্যমে তারা যোগাযোগ করতেন বলে জানান বিজিবি।
অভিযান প্রসঙ্গে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক, চোরাচালান, অনলাইন জুয়া এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা তৎপর রয়েছে। অনলাইন জুয়াসহ সকল ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে বিজিবির এই কঠোর অবস্থান ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আটককৃত আসামিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’