Wednesday 22 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানসহ গৃহবধূকে বাড়ি ছাড়া করার ঘটনায় মামলা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২১ জুলাই ২০২৬ ২১:২৬ | আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬ ২৩:৫৮

চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঝালকাঠী।

‎বরিশাল: ‎ঝালকাঠির নলছিটিতে স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুরবাড়ি থেকে দুই সন্তানসহ মুন্নি আক্তার কলি (৩৬) নামের এক গৃহবধূকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার ভাসুরের ছেলে ও ননদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে ভাসুরের ছেলে শহীদ আলম ও ননদ তাসলিমা বেগমসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ঝালকাঠির আদালতে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

‎মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা শান্ত মামলার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন।

‎মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র, দা, লোহার রডসহ মহড়া দিয়ে জনমনে ভীতি, আতঙ্ক ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে ঘেরের মাছ লুট, গাছ কাটা ও বসতঘরে হামলা-ভাঙচুর করে ওই গৃহবধূকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

‎প্রধান আসামি শহীদ আলম উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি এবং ভরতকাঠি গ্রামের মৃত রশিদ হাওলাদারের ছেলে।

‎মামলার বিবরণে জানা গেছে, উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের ভরতকাঠী গ্রামের বাসিন্দা মুন্নি আক্তার কলির স্বামী মো. রফিক গত ২০২৪ সালের ২৭ মে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে আসার পথে এয়ারপোর্টে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান। পরে সৌদি আরব থেকে রফিকের মরদেহের সঙ্গে তার জমাকৃত নগদ ১৮ হাজার ৪০০ সৌদি রিয়াল, স্বর্ণালঙ্কার, অন্যান্য মালামাল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাংলাদেশে পাঠানো হয়। কিন্তু মামলার বাদী মুন্নি ও তার দুই সন্তানকে না জানিয়ে ভাসুরের ছেলে শহীদ আলম ও ননদ তাসলিমা বেগম দপদপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নামে একটি জাল প্রত্যয়নপত্র প্রস্তুত করে মুন্নির স্বামীর মরদেহসহ মালামাল, নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য কাগজপত্র ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আসামি শহীদ আলম ও তাসলিমা বেগম অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মুন্নিকে হত্যা ও গুরুতর জখমের হুমকি দেন। গত ২ জুলাই আসামি শহীদ ও তাসলিমা এবং অন্যান্য আসামিরা মুন্নির বসতঘরের সামনের ঘের থেকে প্রায় ২০ মণ মাছ লুট করেন এবং ঘেরের বাঁধ কেটে ঘেরটি উন্মুক্ত করে দেন। আসামিরা মুন্নির ঘরের পাশের বাগান থেকেও ১৩টি গাছ জোরপূর্বক কেটে ফেলেন। এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা মুন্নিকে ধাওয়া করেন এবং বসতঘরে ঢুকে দুই সন্তানসহ তাকে মারধর করেন। পরে বসতঘরে লুটপাট ও ভাঙচুর করে তাদেরকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে বসতঘরে তালা লাগিয়ে দেন।

‎এ বিষয় জানতে চাইলে মামলার প্রধান আসামি শহীদ আলম বলেন, ‘বাদী মুন্নির আনীত অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। শুধুমাত্র হয়রানি করার জন্য তাকে ও অন্যান্যদের এ মামলায় জড়ানো হয়েছে।’

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর