Thursday 30 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ধর্ষণের অভিযোগে আটক শিক্ষককে জনতার মারধরের চেষ্টা, ৮ পুলিশ আহত

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩০ জুলাই ২০২৬ ১০:২৫ | আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৬ ১০:২৬

আটক শিক্ষক আতিক উল্লাহ।

কুমিল্লা: কুমিল্লার বরুড়ায় মাদরাসায় ছেলেশিশুকে (৯) ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক আতিক উল্লাহকে আটক করে পুলিশ। এ সময় অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিয়ে মারধরের চেষ্টার পাশাপাশি পুলিশের ওপর হামলা চালান স্থানীয় লোকজন। এতে অন্তত আটজন পুলিশের সদস্য আহত হয়েছেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে উপজেলার আড্ডা বাজার এলাকার ফয়জুনে মদিনা মডেল মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে দায়িত্ব পালনে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে মাদরাসায় এক শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আড্ডা বাজার এলাকায় স্থানীয় লোকজনের ভিড় জমে এবং উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বিকেলের দিকে বরুড়া থানা–পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা অভিযুক্ত শিক্ষককে হেফাজতে নেয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ওই শিক্ষককে মারার চেষ্টা করে। পুলিশ তাকে রক্ষা করে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করে। তখন স্থানীয় লোকজন পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং কিল-ঘুষি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। একপর্যায়ে পুলিশের গাড়ির কাচ ভাঙচুর করা হয়।

বিজ্ঞাপন

হামলায় এসআই মিশন চৌধুরীসহ পুলিশের আট সদস্য আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে ভ্যানে করে বরুড়া থানায় নিয়ে যায়। আহত পুলিশ সদস্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, রাতের খাবারের পর অন্য শিক্ষার্থীরা ঘুমিয়ে পড়লে তাকে ও আরেকজন শিক্ষার্থীকে অফিস কক্ষে ডাকা হয়। পরে অপর শিক্ষার্থী চলে গেলে অভিযুক্ত শিক্ষক তার সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করেন এবং বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য চাপ দেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক আতিক উল্লাহ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই শিক্ষার্থী তার শরীর টিপে দিয়েছিল। তবে তিনি স্বীকার করেন, ওই ঘটনায় তার আচরণে ভুল হয়েছে।

বরুড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় সরকার বলেন, শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার প্রক্রিয়া চলছে। বৃহস্পতিবার তাকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হবে।

বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী নাজমুল হক জানান, শিশুর অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পৃথক আরেকটি মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর