শরীয়তপুর: বিএনপি সরকার ব্যর্থ হলে দেশে কেউ বাস করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মতো নিষ্ঠাবান সরকার এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মতো আন্তরিক নেতৃত্ব বাংলাদেশের ইতিহাসে আর আসেনি।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সময়ের চেয়ে আন্তরিক প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসে আর আসবে না। এই সরকার ব্যর্থ হলে এ দেশে কেউ বাস করতে পারবে না। জুলাই অভ্যুত্থানের পর এই সময়ে যদি আমরা আমাদের কমিটমেন্ট বাস্তবায়নে ব্যর্থ হই, তাহলে শুধু আমরাই নয়, আপনারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই সবাই বাড়িতে না থেকে নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করুন।’

চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেওয়া প্রতিশ্রুতি যদি বাস্তবায়ন করতে না পারি, তাহলে আমরা শুধু শেষ হব না, আপনারাও শেষ হবেন। কেউ বাড়িতে থাকতে পারবেন না, ডিউটিতেও থাকতে পারবেন না। কারণ সবার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সবাই জানেন।’
তিনি চিকিৎসকদের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের অনুরোধ করে বলছি, এরপরও যদি অনিয়মিতভাবে কাজ করেন, তাহলে টার্মিনেশন অথবা সাসপেনশন করতেই হবে। যতদিন নরম থাকার প্রয়োজন ছিল, ততদিন ছিলাম। এখন আর নরম থাকার সুযোগ নেই।’
দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের স্বার্থে স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করবেন না। সবাই মিলে মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পারলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে।’
এ সময় তিনি দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, লাখো প্রবাসী বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন। তাদের অবদান দেশের রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে মন্ত্রী ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। তিনি চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ, রোগীদের উপস্থিতি, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব পালনসহ সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন। পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে সেবার মান সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং হাসপাতালের অবকাঠামোগত সমস্যা ও উন্নয়ন প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে হাসপাতালের আশপাশে থাকা দুটি বেসরকারি ক্লিনিক সিলগালা করার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে অফিস চলাকালে বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগে দুই চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ সময় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।