Saturday 01 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রংপুরে চালু হচ্ছে ১০০শয্যার আধুনিক শিশু হাসপাতাল, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১ আগস্ট ২০২৬ ২১:৫৬

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখার অতিরিক্ত সচিব আরিফ আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

রংপুর: নির্মাণ শেষ হওয়ার ৬ বছর পর অবশেষে আলোর মুখ দেখতে চলেছে রংপুরের ১০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক শিশু হাসপাতাল।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখার অতিরিক্ত সচিব আরিফ আহমদ হাসপাতালের আউটডোর, ইনডোর ভবন, প্রবেশ দ্বার এবং অক্সিজেন প্লান্ট পরিদর্শন করেন এবং কর্তৃপক্ষের কাছে হাসপাতাল চালু করতে বিভিন্ন সংকটের কথা শোনেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ক্রয় এবং জনবল নিয়োগের কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে।

দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা পড়ে থাকা এই হাসপাতালটি চালু করতে এরইমধ্যে ২০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যন্ত্রপাতি কেনার জন্য। আরিফ আহমদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অচিরেই রংপুরসহ সারাদেশে নির্মিত শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন করবেন। এ লক্ষ্যে যন্ত্রপাতি কেনার টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ মাসের মধ্যে সব হাসপাতালে যন্ত্রপাতি চলে আসবে। পদ সৃজনের বিষয়টিও অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে, কাজ প্রায় শেষ। আসবাবপত্রের টেন্ডারও হয়ে গেছে, নমুনা যাচাই-বাছাই চলছে। আশা করছি, এ মাসের মধ্যেই অগ্রগতি দেখা যাবে।’

বিজ্ঞাপন

২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর সাবেক সদর হাসপাতালের ১.৭৮ একর জমিতে ৩১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে এই হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৯ সালের শেষ দিকে নির্ধারিত সময়ের আড়াই মাস আগে নির্মাণ কাজ শেষ হলেও ২০২০ সালের ৮ মার্চ ভবনটি হস্তান্তরের পর করোনা মহামারির কারণে এটি আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে করোনা শেষ হতেই আবারো অচলাবস্থা ফিরে আসে। জনবল ও যন্ত্রপাতি সংকট, প্রশাসনিক জটিলতা এবং অর্থ বরাদ্দ না থাকায় দীর্ঘ ছয় বছর ধরে এই হাসপাতালটি ছিল প্রায় পরিত্যক্ত।

এতে স্থানীয়দের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাত্র ৯৫ শয্যার শিশু বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৩০০-এর বেশি শিশু ভর্তি থাকত, যেখানে এক শয্যায় দুই থেকে তিন জন রোগীকে স্থান দেয়া হতো। অসংখ্য শিশুকে মানসম্মত চিকিৎসার অভাবে ঢাকা বা পাশের দেশে যেতে হতো, যা সাধারণ মানুষের জন্য ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

অতিরিক্ত সচিব আরিফ আহমদ জানান, শিশু হাসপাতাল চালু করতে যে তিনটি প্রধান বাধা ছিল— জনবল, যন্ত্রপাতি এবং আসবাবপত্র—সেগুলোর সবকটির সমাধানে কাজ শেষ পর্যায়ে। হাসপাতালটি চালু হলে শিশুদের জটিল সার্জারিসহ সাধারণ সব রোগের চিকিৎসা স্বল্পমূল্যে পাওয়া যাবে।

তিনতলা এই হাসপাতাল ভবনের প্রতি তলার আয়তন ২০ হাজার ৮৮২ বর্গফুট। প্রথম তলায় থাকছে ইমার্জেন্সি, আউটডোর, চিকিৎসকদের চেম্বার ও ল্যাব। দ্বিতীয় তলায় থাকছে অপারেশন থিয়েটার ও ব্রোন ইউনিট এবং তৃতীয় তলায় থাকবে ওয়ার্ড ও কেবিন। এছাড়া চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের জন্য আলাদা আবাসন এবং বিদ্যুৎ সাবস্টেশন রয়েছে।

শুধু রংপুর নয়, একই উদ্যোগে খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায়ও পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই পাঁচটি হাসপাতালে মোট ১ হাজার ৪৭৫ জন কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে এবং প্রতিটি হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা থাকবে।

পরিদর্শন শেষে অতিরিক্ত সচিব আরিফ আহমদ রংপুর মা ও শিশু হাসপাতাল এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপ-পরিচালক ডা. ওয়াজেদ আলী, সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা ও অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর