সুনামগঞ্জ: জেলার দিরাইয়ে দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগে তাদের বাবা কামরুল হাসান (৩২)-কে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১২ আগস্ট) স্থানীয়রা তাকে আটক করে দিরাই থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
দুই শিশুর মধ্যে একজন কামরুল হাসানের ছেলে মুহাদ্দিছ মিয়া (৬) ও অপর শিশু তার মেয়ে তুলনা আক্তার (৩)।
অভিযুক্ত কামরুল হাসান চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া মধুপুর গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেলে দুই সন্তানকে নিয়ে সিলেট যান কামরুল। সেখানে দুইদিন থাকার পর রোববার সিলেট থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। এরপর সোমবার রাতে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন। বাড়িতে এসে সাথে থাকা সন্তানদের খুঁজে পাচ্ছেন না বলে ফেইসবুকে লাইভ করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে বুধবার স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করেন। পরে তাকে দিরাই থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল হাসান দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘাতক পিতা কামরুলকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে দিরাই থানায় আনা হয়েছে।’
পুলিশ জানায়, বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে শুক্রবার সন্তানদের সিলেটে নিয়ে যান কামরুল। সেখানে দুইদিন থেকে রোববার বাড়ি ফেরার পথে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের জাওয়া বাজার পার হয়ে ডাবর এলাকায় নেমে পড়েন তিনি। এ সময় ডাবরের পাশে বড়কাপন এলাকায় ঘুমে অচেতন সাড়ে তিন বছরের মেয়ে শিশু তুলনা-কে পানিতে ফেলে দেন কামরুল। এরপর দিরাই রাস্তার পাশে মেডিকেল কলেজের সামনে পানিতে ফেলে দেন ছয় বছরের ছেলে মুহাদ্দিস-কে। তাদেরকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল বলে জানান ঘাতক কামরুল।
বুধবার সুনামগঞ্জ সদরের লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের রাস্তার পাশ থেকে ছেলে মোহাদ্দিসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগেরদিন মঙ্গলবার বড়কাপন এলাকা থেকে শিশু তুলনার মরদেহ উদ্ধার করে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ। মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে।