সিলেট: নগরীতে স্বামী-স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় বাবুল মিয়া নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকাল আনুমানিক ৬টার দিকে নগরীর রায়নগরের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন তিনি।
গ্রেফতার বাবুলের বাড়ি চাঁদপুর জেলায়। তিনি পেশায় একজন রংমিস্ত্রি। তবে মাঝেমধ্যে কসাইয়ের কাজও করতেন তিনি।
বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে বাসার রংমিস্ত্রি বাবুল মিয়াকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে— তিনি ওই বাড়িতে কাজ করতেন। সেই সুবাদে কাজের মেয়ে তাহমিনার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার আগে সকাল ৯টার দিকে তিনি বাড়িতে প্রবেশ করেন। এরপর কাজের মেয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়।’
পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘পরে কাজের মেয়েকে নিয়ে তিনি একটি রুমে প্রবেশ করেন। তখন তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এসময় তিনি ছুরি দিয়ে কাজের মেয়েকে আঘাত করে। পরে নিহত আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী এগিয়ে এলে তাকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বাবুল। এরপর গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তাকেও হত্যা করে তিনি বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান।’
তিনি আরো বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ঘাতক বাবুল জড়িত বলে জানতে পেরেছি এবং এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কিনা আমরা বিস্তারিত জেনে আগামীকাল গণমাধ্যমের সামনে হাজির হবো।’
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আসামির জবানবন্দি অনুযায়ী হত্যার পর যে পথ দিয়ে তিনি যাচ্ছিলেন সেখানে ছুরি ফেলে দিয়েছেন। পুলিশ ছুরি উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।’
এর আগে, বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ওই বাসার বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী রাইয়া বেগম (৭২) ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা আক্তার (১৫)।
নিহত আব্দুস সাত্তার মিতালী আবাসিক এলাকার প্রথম বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী। সিলেট লালদিঘীর পাড়ে সাত্তার সন্স নামে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল। তিনি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক ছিলেন। একসময় তিনি কয়লা ও হাউজিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও তিনি সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপদেষ্টা ছিলেন। তার চার ছেলে-মেয়ের মধ্যে দুজন যুক্তরাষ্ট্রে এবং দুজন যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন।