কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে মোট ৫১ লাখ ৪৫ হাজার ১৯০ টাকা মূল্যের ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানে একজনকে আটকও করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্যের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ১২ ও ১৩ আগস্ট কুষ্টিয়া সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে ১২ আগস্ট রাতে চরচিলমারী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার আতারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুরোনো খারিজাথাক গ্রামের আখতার মাতবরের ছেলে মঞ্জু মাতবরকে (৩০) আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ভারতীয় ৪ হাজার ৬০০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ও ৯০০ পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
একই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে পশ্চিম ধর্মদাহ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার পশ্চিম ধর্মদাহ মাঠে অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৫ বোতল ভারতীয় মদ, ৪ হাজার পিস ডেক্সামেথাসন, ৯১০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট ও ৫৮ প্যাকেট পাতার বিড়ি উদ্ধার করা হয়।
এর আগে একই দিন দুপুরে মথুরাপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মথুরাপুর মাঠে অভিযান চালিয়ে ৬ বোতল ভারতীয় মদ ও ৩ হাজার পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট উদ্ধার করে বিজিবি।
১৩ আগস্ট ভোর ৪টার দিকে বিলগাথুয়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বিলগাথুয়া মাঠে অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ২৭ বোতল ভারতীয় মদ, ৯৯৫ পিস ডেক্সামেথাসন ও ৫০০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
একই সময় আশ্রায়ন বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার পুরোনো ঠোটারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২ হাজার পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট ও ১২০ প্যাকেট পাতার বিড়ি উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া সকাল ৫টার দিকে ঠোটারপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার পাকুরিয়া মাঠে অভিযান চালিয়ে ৩ বোতল ভারতীয় মদ, ১ বোতল ফেয়ারডিল সিরাপ, ৪ বোতল এস্কাফ সিরাপ, ১ বোতল জেরিস্কাহ সিরাপ, ১০০ পিস ডেক্সামেথাসন ও ৯০০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি আরও জানায়, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং মাদকদ্রব্যের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) নিয়মিত গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান পরিচালনা করছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানি মালামালের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।