রংপুর: রংপুরের আলোচিত চার হত্যা মামলার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১টার দিকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে যান মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল। অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর এই মামলায় আসামিদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের কারাগার থেকে বাইরে না এনে রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাব টেকনোলজিস্টদের কারাগারে পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আদালত ডোপ টেস্টের আবেদন মঞ্জুর করার পর আসামিদের নমুনা সংগ্রহের জন্য কারাগারে যাওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আসামিদের কারাগার থেকে বাইরে নিয়ে আসা সম্ভব নয়। এ কারণে রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাবের টেকনোলজিস্টদের কারাগারে নিয়ে গিয়ে ইউরিন স্পেসিমেন (প্রস্রাবের নমুনা) সংগ্রহ করা হয়েছে।’
মহানগর ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি খুবই চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর। এই মামলার আসামিদের বাইরে নিয়ে আসা হলে তাদের ওপর হামলা বা যে কোনো সময় মবের সৃষ্টি হতে পারে।’ তাই ঝুঁকি এড়াতে কারাগারের ভেতরেই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তাদের জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনার রাতে তারা আট থেকে নয়টি ইয়াবা ট্যাবলেট সেবন করেছিলেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও আসামিদের বক্তব্য যাচাই-বাছাইয়েই ডোপ টেস্টের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ।
ইতোমধ্যে মামলার তদন্তভার কোতোয়ালি থানা থেকে ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবি পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার তালাবদ্ধ একটি বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সবার মৃত্যুর কারণ শ্বাসরোধ বলে নিশ্চিত করেছে ময়নাতদন্ত।
পুলিশ জানায়, ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় ও বাধা দেওয়ায় গণপতি চক্রবর্তীকে প্রথমে হত্যা করা হয়। পরে পরিবারের বাকি সদস্যদেরও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। ডাকাতির নকল তৈরি করতে বাড়ি তছনছ করা হয় এবং প্রমাণ মুছতে মোবাইল ডিটারজেন্ট পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়।
এ ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। রংপুর জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন এই মামলার আসামিদের পক্ষে মামলা পরিচালনা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে সুশীল সমাজ ও স্থানীয়দের একাংশ পুলিশের বর্ণিত ঘটনাক্রমকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করছেন না। নিহতের ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী পুলিশের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘জমিটি অনেক আগে কেনা হয়েছিল এবং এ নিয়ে কোনো বিরোধ ছিল না’। এছাড়া হত্যার কিছুদিন আগে গণপতি চক্রবর্তী প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেছিলেন, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার মাহবুবুর রশিদ জানিয়েছেন, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে পুলিশ। ডোপ টেস্টের ফলাফল তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।