Tuesday 18 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

যেকোনো সময় খুন হতে পারেন— স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন মুছাব্বির

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৪৭ | আপডেট: ৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:১৩

স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: গুলিতে নিহত জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বলেছেন, তার স্বামী প্রায়ই বলতেন তার জীবনের হুমকি আছে এবং যে কোনো সময় তাকে খুন করা হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে স্বামীর মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

সুরাইয়া বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী খুব ভালো মানুষ ছিলেন। রাজনৈতিক মামলা ছাড়া কারও সঙ্গে তার কোনো শত্রুতা ছিল না। কিন্তু এই ভালো হওয়াটাই হয়তো তার কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি জানান, মুছাব্বির কখনো কখনো বলতেন তিনি জীবনের হুমকির মধ্যে আছেন। তবে কার কাছ থেকে হুমকি আসছে— সে বিষয়ে কিছু বলতেন না। তার বিরুদ্ধে ১০০ এর বেশি রাজনৈতিক মামলা ছিল এবং এসব মামলায় তিনি পাঁচবার কারাভোগ করেছেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের এপ্রিলে জামিনে মুক্তি পান।

বিজ্ঞাপন

নিহতের স্ত্রী আরও জানান, পশ্চিম কারওয়ান বাজারের গার্ডেন ভিউ এলাকায় তাদের নিজস্ব বাসা থাকলেও রাজনৈতিক কারণে সেটি নিরাপদ মনে করতেন না মুছাব্বির। পরে পরিবার নিয়ে মেরাদিয়া এলাকায় বসবাস শুরু করেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি ইন্টারনেট ও পানি সরবরাহ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

মুছাব্বিরের বাবা খলিলুর রহমান। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।

কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে— এমন প্রশ্নে সুরাইয়া বেগম বলেন, ‘এখনো কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তার কোনো শত্রু ছিল না। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। ঘটনার সময় তার কাছে থাকা দুটি মোবাইল ফোন এখনো উদ্ধার হয়নি। শেষ কলের তথ্য পেলেই অনেক কিছু বের হতে পারে।’

তিনি জানান, অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে।

তেজগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ক্যশৈন্যু মারমা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় তিন থেকে চারজন অজ্ঞাতনামা আসামিকে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে মুছাব্বিরের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. আয়শা পারভীন ময়নাতদন্ত পরিচালনা করেন।

এর আগে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হায়দার আলী। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিহতের পেটের ডান পাশে আধা ইঞ্চি আকারের গুলির ছিদ্র, ডান হাতের কনুইয়ের পেছনে আরেকটি ছিদ্র এবং বাম হাঁটুতে ছিলা জখম রয়েছে।
স্থানীয়দের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মাথায় মাফলার পরা তিন ব্যক্তি মুছাব্বিরকে গুলি করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। অন্ধকারের কারণে তাদের মুখ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

বুধবার রাত ৮টার কিছু পর কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউয়ের হোটেল সুপারস্টারের পাশে আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তেজগাঁও থানার ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে বিআরবি হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মাসুদ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গুলশান থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাকিল আহমেদ খান বলেন, মুছাব্বির জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া তিনি মহানগর উত্তর শাখার দুইবার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং ২০২০ সালে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে কমিশনার পদে নির্বাচন করেছিলেন।

তিনি জানান, বাদ যোহর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে প্রথম জানাজা, বাদ আছর কারওয়ান বাজারে দ্বিতীয় জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

সারাবাংলা/এসএসআর/এমপি
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর