লোহিত সাগরে ট্যাংকারে হুতিদের হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে হরমুজ প্রণালী আবারও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। ছয় সপ্তাহের মধ্যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) টানা পঞ্চমবারের মতো তেলের দাম বেড়েছে।
আজ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৮৮ ডলার অতিক্রম করেছে। আজ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৯৩ ডলার বা ২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪১ ডলার বা ১ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়েছে।
গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। ফলে ব্রেন্টের দাম ৮ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। এর মধ্যে লোহিত সাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে নতুন হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।
রয়টার্সের খবরে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলে মাইন পাতা পথ ধরে যাওয়ার চেষ্টাকালে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর ট্যাংকারে আগুন লেগে যায় এবং অন্য দুটি ট্যাংকার ফিরে যায়।
এক বিবৃতিতে রেভোল্যুশনারি গার্ডস বলেছে, প্রণালিটি তাদের নিয়ন্ত্রণে এবং সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে, যদিও এই অঞ্চলে মার্কিন তৎপরতা অব্যাহত আছে। তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ইরানের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া কোনো ট্যাংকারকে ঢুকতে বা বের হতে দেওয়া হবে না।
এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের পাশাপাশি, ইরান-সমর্থিত হুতিরা বাব-আল-মানদেব প্রণালিতে সৌদি তেলবাহী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। তারা সৌদি আরবের ওপর নৌ অবরোধ আরোপের চেষ্টা করে একটি নতুন ফ্রন্ট খুলেছে।
ফিলিপ নোভার সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট প্রিয়াঙ্কা সচদেভা বলেছেন, ‘বাব এল-মানদেব এবং হরমুজ প্রণালি উভয় স্থানে একযোগে বিঘ্ন সৃষ্টির কারণে তেলের দাম বড় ধরণের ঝুঁকির সম্মুখীন হতে যাচ্ছে।’
এমএসটি মার্কির জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সল কাভোনিক বলেছেন, ‘লোহিত সাগরে হুমকি দৈনিক ৫০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত তেল সরবরাহ ব্যাহত করতে পারে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি অকার্যকর ঘোষণার পর এবার তেলের দাম এখনো ১০০ ডলারের নিচেই আছে। যদিও প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত আছে। এর আগে তেলের দাম সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে উঠেছিল, এখন দাম তার চেয়ে ৩০ ডলার কম।