ঢাকা: ঢাকার এক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর ও সরকারি সিল জাল করে ভুয়া বিয়ের হলফনামা তৈরি করেছেন বরগুনার এক আইনজীবী। এরপর সেই নথি ব্যবহার করে ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধেই মামলা দায়েরের চেষ্টা করার অভিযোগে ওই আইনজীবীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) রাতে ঢাকার কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের অফিস সহকারী (কাম-কম্পিউটার অপারেটর) খালিদ হোসেন।
মামলার আসামিরা হলেন বরগুনা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম (তরু) ফরাজী, মো. নয়ন ও ফাহিমা ইসলাম রিয়া।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, রোববার বিকেলে নয়ন ও রিয়ার একটি বিয়ের হলফনামা যাচাইয়ের জন্য আদালতে পাঠানো হলে অফিস সহকারী খালিদ হোসেন নথির স্মারক নম্বর রেজিস্টারের সঙ্গে মিলিয়ে অসঙ্গতি দেখতে পান। রেজিস্টারে ওই নম্বরটি অন্য একজনের নামে নিবন্ধিত থাকলেও হলফনামায় ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের নামে জাল স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করা হয়েছিল।
তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা যায়, নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সম্পাদিত ওই হলফনামায় প্রতারণামূলকভাবে ম্যাজিস্ট্রেটের কাউন্টার সই ও সিল সংযুক্ত করা হয়। অথচ মুসলিম বিবাহ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কাজীর মাধ্যমে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক এবং এ ধরনের নোটারি হলফনামায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাউন্টার সই করার বিধান নেই।
অভিযোগ অনুযায়ী, জাল নথিটি ব্যবহার করে আসামিরা বরগুনার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের চেষ্টা করেন। তবে মামলার উপযুক্ত ভিত্তি না থাকায় আদালত তা গ্রহণ না করে খারিজ করে দেন।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্রের সদস্য। তারা পরস্পরের যোগসাজশে ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে ভুয়া নথি তৈরি এবং সেগুলোকে আসল হিসেবে বিভিন্ন অফিসিয়াল কাজে ব্যবহারের চেষ্টা করেছেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, প্রতারণা ও সরকারি নথি জাল করার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।