ঢাকা: ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্ট (এইচটিপি) এবং নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ ও বাজার থেকে অপসারণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এসব পণ্য বাজার থেকে অপসারণ এবং প্রয়োজন হলে নিষিদ্ধ করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
রুলে মানবজীবন ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্ট ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো এবং নিকোটিন পাউচ বাজার থেকে অপসারণ অথবা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
আদালতে করা রিট আবেদনে বলা হয়, ই-সিগারেট ও অন্যান্য নতুন ধরনের তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও) এসব পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছে। এরপরও দেশে এসব পণ্য নিয়ন্ত্রণ, অপসারণ বা নিষিদ্ধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্বের পরিপন্থি।
আবেদনে আরও বলা হয়, সংবিধানের ১৮(১) অনুচ্ছেদে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নকে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩২ অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। ফলে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের বিস্তার রোধে রাষ্ট্রের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।
বাদীপক্ষের দাবি, ক্ষতিকর এসব পণ্যের অবাধ বাজারজাতকরণ ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো ও নিকোটিন পাউচের বাজার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
রিট আবেদনে ‘ভয়েজ অব ডিসকভারি’ মামলার রায়ের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। ওই মামলায় হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ তামাক শিল্প বা বিড়ি কারখানার লাইসেন্স সীমিত করা এবং বিদ্যমান তামাক কোম্পানিগুলোকে যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে বিকল্প শিল্পে রূপান্তরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। বাদীপক্ষের মতে, একই নীতির আলোকে নতুন ধরনের নিকোটিন ও তামাকজাত পণ্যের বিস্তার রোধেও রাষ্ট্রকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
রিটের বাদী এ কে এম মাকসুদ, সাইফুদ্দিন আহমেদ, হেলাল আহমেদ ও মো. আমিনুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে তামাকবিরোধী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে এসব পণ্যের বিস্তার রোধে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নিশ্চিত করার দাবিতে তারা হাইকোর্টে আবেদন করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ। তারা সংবিধানের ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ক্ষতিকর তামাকজাত পণ্য নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্বের বিষয়গুলো আদালতের সামনে তুলে ধরেন।
হাইকোর্টের এ রুলের মাধ্যমে দেশে ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো ও নিকোটিন পাউচ নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। এখন রুলের জবাবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের পর আদালত পরবর্তী আদেশ দেবেন।