Wednesday 22 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘সরকার গুমে বিশ্বাস করে না, সাইবার অপরাধীদের জন্য দুঃসংবাদ’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২১ জুলাই ২০২৬ ১৬:২১ | আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬ ১৮:১৬

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান

ঢাকা: সরকার গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা কিংবা যেকোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় নিপীড়নকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

একই সঙ্গে অনলাইনে সাইবার বুলিং, অপপ্রচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুয়া তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, সাইবার অপরাধীদের জন্য সামনে ‘দুঃসংবাদ’ অপেক্ষা করছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি বাগেরহাটে কোস্টগার্ড পরিচয়ে এক যুবককে তুলে নেওয়া এবং তিন মাস ধরে নিখোঁজ থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি সরকার অস্বীকার করছে না। অভিযোগটি যাচাই করা হবে এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার উদ্যোগ নেবেন।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘এই সরকার কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেবে না। রাষ্ট্র যদি কাউকে গুম করে বা বিচার ছাড়াই হত্যা করে, তাহলে সেটি আর রাষ্ট্র থাকে না, সেটি মাস্তানিতে পরিণত হয়। আইন অনুযায়ী বিচার শেষে রাষ্ট্র শাস্তি দিতে পারে, কিন্তু কাউকে তুলে নিয়ে গুম করা বা হত্যা করা রাষ্ট্রের কাজ নয়।’

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিহত শিশুদের পরিবারের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনায় সন্তান হারানোর ক্ষতি কখনোই টাকায় পূরণ হওয়ার নয়।’ তারপরও রাষ্ট্রের সক্ষমতার মধ্যে থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন।

নিহত শিশুদের ‘শহিদ’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি একটি দুর্ঘটনা হওয়ায় বিষয়টি সরকারকে বিবেচনা করতে হবে। প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধিদের বসিয়ে দাবি-দাওয়ার বিষয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’

সরকারের ৫ মাসের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করতে গিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দীর্ঘদিনের ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়ে কাজ করা। তার ভাষায়, ‘সদিচ্ছা থাকলেও এমন একটি সিস্টেম নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে, যেখানে দীর্ঘ ১৭ বছরে অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও মানসিকতা বদলে গেছে। এই ধ্বংসপ্রাপ্ত কাঠামো পুনর্গঠন অত্যন্ত কঠিন কাজ।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘পুলিশ বাহিনী আগের তুলনায় আত্মবিশ্বাস ফিরে পেলেও জনগণের মধ্যে এখনো অবিশ্বাস ও ট্রমা রয়েছে।’ তবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি কার্যকর পুলিশ বাহিনী অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি তাদের কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

দুর্নীতি দমন কমিশন, তথ্য কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মতো জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, ‘সরকার ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।’

একই সঙ্গে জুলাই-আগস্টের সহিংসতার ঘটনায় দায়ীদের বিচারের ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা পুরো বাহিনীকে দোষী করতে চাই না। যাদের ব্যক্তিগত অপরাধ আছে, তাদের বিচার হবে। কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠানকে সামগ্রিকভাবে কলঙ্কিত করলে রাষ্ট্রের ক্ষতি হবে।’

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে একটি আইনজীবী প্যানেল গঠন করা হয়েছে। শিগ্‌গিরই এ বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারি হবে।’ তিনি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সচেতনভাবে কোনো ধরনের ডিসইনফরমেশন বা মিসইনফরমেশন ছড়াবেন না।’

নারীদের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিংকে ‘মারাত্মক সহিংসতা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘রাস্তায় শারীরিকভাবে আঘাত করাই শুধু সহিংসতা নয়, অনলাইনেও নারীদের লক্ষ্য করে যেসব আক্রমণ করা হয়, সেগুলোও ভয়াবহ সহিংসতা। এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।’

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনলাইনে অপরাধ, অপপ্রচার ও সাইবার হয়রানি রোধে সরকার আইনানুগ ও কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’ তার ভাষায়, ‘সাইবার অপরাধীদের জন্য সামনে দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছে।’

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এমএম