ঢাকা: রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ট্রলি বিতর্কের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন পেইজে ‘ট্রলি নিতে বাধা, আনসারদের সঙ্গে প্রবাসীর স্বজনদের ধাক্কাধাক্কি’ শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়। ভিডিওটি ঘটনার একটি খণ্ডিত অংশমাত্র। এতে পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুপস্থিত থাকায় প্রকৃত পরিস্থিতির সঠিক প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে আনসার ও ভিডিপি সদর দফতরের (গণসংযোগ শাখা) সার্কেল অ্যাডজুটেন্ট মো. শহিদুজ্জামান রাজু এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, গত ২৮ জুলাই বিকেল ৪টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২-এর বহির্গেট দিয়ে কয়েকজন প্রবাসীর স্বজন নিয়মবহির্ভূতভাবে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা বিমানবন্দরের প্রচলিত নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী তাদের প্রবেশে বাধা দেন। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আনসার সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। কিছুক্ষণ পর তাদের স্বজন ক্যানোপি-২ এলাকায় পৌঁছালে তারা বিমানবন্দরের ট্রলি নির্ধারিত এলাকার বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ট্রলি নির্ধারিত এলাকার বাইরে নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হওয়ায় দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা তাদের পুনরায় বাধা দেন। এ সময় তারা আবারও অসৌজন্যমূলক আচরণ ও ধাক্কাধাক্কিতে লিপ্ত হন। নিয়ম ভঙ্গ করতে ব্যর্থ হয়ে একপর্যায়ে তারা ট্রলি ব্যবহার না করে নিজেদের মালামাল হাতে ও কাঁধে বহন করে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।
শহিদুজ্জামান রাজু জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওটি ঘটনার একটি খণ্ডিত অংশমাত্র। এতে পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুপস্থিত থাকায় প্রকৃত পরিস্থিতির সঠিক প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের আচরণ পর্যালোচনায় দেখা যায়, তারা পুরো ঘটনায় সর্বোচ্চ ধৈর্য, সংযম, শালীনতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। কোনো উসকানির মুখেও তারা প্রতিক্রিয়াশীল আচরণ না করে কেবল বিমানবন্দরের প্রচলিত নিরাপত্তা বিধি বাস্তবায়ন করেছেন। সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, একটি কুচক্রী মহল বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ঘটনার অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিমানবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তারা নিজস্ব কোনো নিয়ম প্রয়োগ করেন না; বরং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নিরাপত্তা নির্দেশিকা, নীতিমালা ও প্রচলিত আইন বাস্তবায়ন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো আংশিক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া বিশ্বাস বা প্রচার করা থেকে বিরত থাকুন। গুজবে কান না দিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করুন এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যদের সহযোগিতা করুন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত বিধি-বিধান মেনে চলুন। সবার সম্মিলিত সহযোগিতাই নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।